সরকারের প্রকাশিত নয়া বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষায় চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও লেকচার ডেমোকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নম্বর ভাগাভাগিতে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে।

এসএসসি আন্দোলন। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিহারা শিক্ষকদের (SSC Deprived Teacher) অভিজ্ঞতার দাম মিলবে। পাশাপাশি বয়সের ছাড়ও (Age relaxation) দেওয়া হবে তাঁদের, একথা সাংবাদিক বৈঠক করে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিশেষ ভাবে জানিয়েছিলেন, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বিষয়টিকেও পরীক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শুক্রবার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তি পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) প্রকাশ করেছে, তাতেও এই দুটি বিষয়ের আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। যা চাকরিহারাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সেটা ঠিক কতটা সুবিধা?
সরকারের প্রকাশিত নয়া বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষায় চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও লেকচার ডেমোকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নম্বর ভাগাভাগিতে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ থাকছে ১০ নম্বর এবং লেকচার ডেমোনস্ট্রেশনের জন্যেও নির্দিষ্টভাবে ১০ নম্বর বরাদ্দ। অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষার বাইরে হাতে-কলমে শিক্ষকতার দক্ষতাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, যাঁদের সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলে পড়ানোর পূর্ব-অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের জন্যও বরাদ্দ থাকছে বছরে ২ নম্বর করে অতিরিক্ত। অর্থাৎ অভিজ্ঞ প্রার্থীরা এই ব্যবস্থায় বাড়তি সুবিধা পাবেন।
ফলে এটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, চাকরিহারা শিক্ষকরা ১০ বা ২০ নম্বর এমনিতেই বেশি পেয়ে এগিয়ে থাকছেন আসন্ন নিয়োগ পরীক্ষায়।
তবে চাকরিহারা যোগ্য অধিকার মঞ্চের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, তাঁরা নতুন করে পরীক্ষায় বসবেন না। সরকারের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে এদিন শহরে অর্ধনগ্ন মিছিলও করেছেন তাঁরা। সেই মিছিল থেকেই এদিনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করলেন তাঁরা।
মিছিল থেকে বাঁকুড়ার চিকিৎসক রমেশ লাহিড়ী বললেন, 'সরকারি নোটিসে কীভাবে সন্তুষ্ট হবো! ৬০ নম্বরের পরীক্ষা। দু'মাসে গোটা সিলেবাস পড়ে পরীক্ষায় বসা অসম্ভব। আমরা স্কুলে পড়াই, সেই পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু পরীক্ষার জন্য আমাদের তো কলেজের পড়াশোনাও করতে হবে। সেটা নতুনদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। যতই অতিরিক্ত নম্বরের ওয়েটেজ দেওয়া হোক, এই পরীক্ষা কোনওভাবেই আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।'
অন্যদিকে, বয়সের দিকটি দেখতে গেলে, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সাধারণ প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সের সীমা থাকে ৪০ বছর। এক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে চাকরিহারাদের বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমার উল্লেখ না করা হলেও, লেখা রয়েছে, ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যাঁদের চাকরি গিয়েছে, অর্থাৎ ২০১৬ সালে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরা বয়সের ছাড় পাবেন। মনে করা হচ্ছে, চাকরিহারাদের সর্বোচ্চ বয়স ৪৯ হলেও তাঁরা এই পরীক্ষায় বসতে পারবেন। কারণ, ২০১৬ সালের নিয়োগে কারও সর্বোচ্চ বয়স যদি ৪০ হয়ে থাকে, সেই হিসেবে ২০২৫ সালে তাঁর বয়স ৪৯ হতে পারে।
এক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে চাকরিহারাদের জন্য নির্দিষ্টভাবে কোনও বয়সের উল্লেখ না করে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নবম, দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক পদের জন্য প্রার্থীদের নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বয়সের ছাড়, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ তারিখের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং আদেশ মেনেই হবে।
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে গত ৩ এপ্রিল স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলটাই বাতিল করে দিয়েছিল প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, সঠিক তথ্য না থাকায় যোগ্য এবং অযোগ্যদের পৃথকীকরণ করা সম্ভব হয়নি। ওই নির্দেশে আদালত এও জানিয়েছিল, চাকরিহারা ২৫ হাজার ৭৩৫ জনের মধ্যে চিহ্নিত অযোগ্যরা ছাড়া বাকিরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন।
এই নিয়ে ৩১ মে-র মধ্যে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। আদালতের সেই নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই শুক্রবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষা, প্যানেল প্রকাশ ও কাউন্সেলিং—সব কিছু বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ প্রার্থীদের সর্বনিম্ন বয়সের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন সরকারি চাকরিতে ২০ বছর বয়স থেকেই বসতে পারতেন চাকরিহারারা। এসএসসির প্রকাশিত সেই বয়সসীমা বাড়িয়ে ২১ থেকে করা হয়েছে। অর্থাৎ যাদের ২০ বছর বয়স, তারা এই পরীক্ষায় বসতে পারবেন না।