বুধবারের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাংবাদিক বৈঠকের কিছুক্ষণ পরই এসএসসি মামলায় দাগিদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে দিল স্কুল সার্ভিস কমিশন।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 27 November 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবারের সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ এবং বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu) সাংবাদিক বৈঠকের কিছুক্ষণ পরই এসএসসি মামলায় দাগিদের সম্পূর্ণ তালিকা (Full Tainted List) প্রকাশ করে দিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। এই তালিকায় নাম রয়েছে ১ হাজার ৮০৬ জনের।
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court), সব জায়গাতেই কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিল এসএসসি (SSC)। আদালতের স্পষ্ট বার্তা ছিল, নতুন চাকরি পরীক্ষায় যাতে কোনও ভাবে অযোগ্যরা সুযোগ না পায় এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই তালিকায় বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে এসএসসি। এই তালিকায় দাগি প্রার্থীর (Full Tainted List) রোল নম্বরের সঙ্গে রয়েছে অভিভাবকের নাম, জন্ম তারিখ ও তাঁর সংশ্লিষ্ট বিষয়।
বৃহস্পতিবারই সাংবাদিক বৈঠক করে এসএসসি-কে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। বলেন, "স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে এসএসসি। আমাদের কাজ কমিশন যাতে নির্বিঘ্নে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা। যদি সেটা কোনওভাবে না হয় তাহলে এসএসসি আইনি প্রক্রিয়া মেনে এগোবে।"
বিরোধীদের নিশানা করে ব্রাত্য আরও বলেন, বিরোধী হিসেবে দলগুলি চাইবেই, চেষ্টা করবেই যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকার নিয়োগ করতে না পারে। সেটা তাদের কাজ। আমাদের কাজ নিয়োগ করা। আমরা সেটা স্বচ্ছতার সঙ্গেই করব। আমি মনে করি না যে বিচারক ভেদে কোর্ট ভেদে আইন বা বিচার বদলায়।"
২৬ হাজার চাকরি বাতিলের (26 Thousand Job Cancel) পর সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এসএসসি-র নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। বক্তব্য, যারা 'যোগ্য' চাকরিপ্রার্থী (Untainted) ছিলেন তাদের নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার তাদের সঙ্গেই নতুন চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছে। এটা কোথাও বলা ছিল না! সেই নিয়ে বিতর্কের মাঝেই অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হয়ে গেল।
প্রসঙ্গত, এসএসসি-র নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন পুরনো-আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা। নতুনদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয় অভিজ্ঞতার জন্য বাড়তি ১০ নম্বর দেওয়ার নিয়মকে (Extra 10 Marks) কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, অভিজ্ঞতায় বোনাস ১০ নম্বর যোগ হওয়ায় নতুন পরীক্ষার্থীদের অনেকেই পিছিয়ে গেছেন। সিস্টেমে স্বচ্ছতা নেই বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।