
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 9 April 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার পর এবার বর্ধমান, দুর্গাপুর, বারাসতেও চাকরিহারা শিক্ষকদের (SSC 2016) ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনায় একাধিক চাকরিহারা শিক্ষক জখম হয়েছেন বলে খবর। আন্দোলনকারীদের ছোড়়া ইটের ঘায়ে জখম হয়েছেন পুলিশের কিছু কর্মীও।
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার বেলা বাড়তেই তীব্র উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয় জেলায় জেলায়। বারাসত, বর্ধমানে কার্যত রণক্ষেত্রর চেহারা নেয়। চাকরিহারাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। পাল্টা হিসেবে পুলিশের অভিযোগ, চাকরিহারাশিক্ষকরাই প্রথমে পুলিশের ওপর হামলা করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর নেতাজি ইনডোরে চাকরিহারাদের সভায় যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চাকরিহারাদের একটা বড় অংশ সেই আশ্বাসে ভরসা করতে পারেননি। ফলে বাড়তে থাকে বিক্ষোভ। বুধবার সকাল থেকে জেলায় জেলায় বিক্ষোভে নামে তাঁরা। ঘেরাও করে ডিআই অফিস। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাঁরা।
এসএসসির ২০১৬ সালের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার ওই মামলায় পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। যার জেরে চাকরিহারা প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করছেন চাকরিহারারা। তাঁদের সাফ বক্তব্য, শাসকদলের একাংশ নেতা চাকরি বিক্রি করল। সে কারণেই সরকার যোগ্য ও অযোগ্য বাছাই করল না, যার খেসারত দিতে হল তাঁদের। পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, "পুলিশ দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে।" এর প্রতিবাদে আরও বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে চাকরিহারাদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে এদিন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়)। এদিন এসএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে বাইরে এসে নিজের সেই ফর্মুলার চিঠি ছিঁড়ে দিয়ে প্রাক্তন বিচারপতি বলেন, "কসবা থেকে বারাসত, দিকে দিকে যেভাবে চাকরিহারা শিক্ষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমার যে বৈঠকে বসার কথা ছিল, তা বাতিল করলাম।"
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসএসসি যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতিও।