
শেষ আপডেট: 21 January 2023 07:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh) কংগ্রেসের সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথকে (Kamal Nath) নিয়ে একটি ভিডিও (video) প্রকাশ করেছে তাঁর দল। প্রদেশ কংগ্রেসের (Congress ) টুইটার হ্যান্ডেলে রিলিজ করা ওই ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে কমলনাথ হনুমান চালিশা পাঠ করছেন। পুজো করছেন। তাতে বলা হয়েছে, শত ব্যস্ততার মধ্যে রামভক্ত হনুমানের নিত্য পুজো করেন তিনি। তাঁর হৃদয় জুড়ে আছেন ভগবান রামচন্দ্র। আরও বলা হয়েছে, ২০১৮-তে অল্প সময়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজ্যে পূজারিদের মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে তিন হাজার করেছিলেন তিনিই।
কংগ্রেস কেন আচমকা এমন ভিডিও প্রচার করল, এই প্রশ্ন ঘিরে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, নতুন কোনও কথা এতে বলা হয়নি। অন্যদিকে, কপিরাইটের প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, নিরুপায় কংগ্রেস হিন্দুত্বকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে।
বিজেপির বক্তব্যকে একেবারে নস্যাৎ করছে না কংগ্রেসও। ঘনিষ্ঠ মহলে কংগ্রেস নেতৃত্ব মানছেন কমলনাথ মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসকে হিন্দুত্বের পথে টেনে নিয়ে যেতে বদ্ধ পরিকর। তিনি নিশ্চিত এই পথে হেঁটেই বছর শেষে ভুপালের কুর্সি ফের কংগ্রেসের দখলে আসবে। আসছে নভেম্বরে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার ভোট।
নভেম্বরে বিধানসভার নির্বাচন আছে পড়শি রাজ্য ছত্তীশগড়েও। গত বছর রাজস্থানের উদয়পুরে কংগ্রেসের চিন্তন শিবিরে ছত্তীশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল এবং মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ বিজেপির মোকাবিলায় গেরুয়া রাজনীতির পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য, ভোট রাজনীতির বাস্তবতা মাথায় রাখলে এছাড়া বিকল্প নেই বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার।
কমলনাথ ও বাঘেলের ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা,’-র তত্ত্ব সরকারিভাবে দলে গৃহীত হয়নি বটে। কিন্তু রাজ্যের বাস্তবতা মেনে পদক্ষেপ করার সবুজ সংকেত দেন তৎকালীন সভাপতি সনিয়া গান্ধী।
বস্তুত, ২০১৮-র বিধানসভা ভোটে মধ্যপ্রদেশে কমলনাথের হিন্দুত্ব আর রাহুল গান্ধীর মন্দির সফরের সুবাদে মধ্যপ্রদেশে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম হয়েছিল কংগ্রেস। গতমাসে ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে রাহুল মধ্যপ্রদেশে গেলে সেই ধারা মেনেই মন্দির সফর করেছেন। মধ্যপ্রদেশের রাজনীতির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরে পুজো দিতে গিলে রাহুল সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন। সঙ্গে ছিলেন কমলনাথ। দুই নেতার মহাকালকে পুজো দেওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেনার নিয়োগ করে ভাইরাল করেছে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস।

গতকাল প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন ভিডিও রিলিজ করার পিছনেও হিন্দুত্বকে চাগিয়ে তোলাই উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি ময়দানে সক্রিয় হওয়ার আগেই রাজ্যবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় নেমেছে কংগ্রেস।
কমলনাথ এমনীতে পুজোআচ্চার ব্যাপারে খুবই নিষ্ঠাবান মানুষ। কংগ্রেসের বেশিরভাগ নেতাই অবশ্য তাই। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁরা কম-বেশি সকলেই নিয়ম করে গৃহদেবতার পুজো করে দিন শুরু করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন এই ব্যাপারে আদর্শ স্থানীয়। জাতীয় রাজনীতিতে অন্তত চার দশক টানা ব্যস্ততম রাজনীতিকের জীবন কাটানো প্রণববাবু সকালে কিছু মুখে দেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় পুজো করতেন।
তবে নরেন্দ্র মোদীর মতো মন্দিরে গিয়ে পুজো করার রেওয়াজ কংগ্রেসের নেতাদের মধ্য তেমন একটা দেখা যায়নি। তাঁরা বেশিরভাগেরাই পুরোহিতের হাত দিয়ে পুজো দিয়ে থাকেন। সেই ধারায় বদল আনেন রাহুল গান্ধীই। মোদীর মতো তিনিও মন্দিরে গিয়ে নিজে পুজো করেন। এই ভাবেই দলকে নরম হিন্দুত্বের পথে টেনে নিয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি।
মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস বলেছে, কমলনাথ নিয়ম করে পুজোপাঠ করেন। তাঁর রোজকার রুটিনে রামভক্ত হনুমানের পুজো বাদ থাকে না। কিন্তু তিনি কখনই ব্যক্তিগত ধর্মাচরণকে রাজনীতির সঙ্গে জুড়তে চাননি। তাই হয়তো অনেকের তাঁর চরিত্রের এই দিকটি সম্পর্কে অবহিত নন।
প্রশ্ন উঠেছে, এখন তবে কংগ্রেস কেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হিন্দু দেবদেবীর পুজোপাঠের ভিডিও প্রচারর করছে। দলীয় সূত্রের বক্তব্য, বিজেপিকে জাগ্রত হিন্দুত্বের পথেই মোকাবিলা করতে চান কমলনাথ। ঘটনাচক্রে বিজেপির নির্বাচনী প্রতীকও পদ্মফুল অর্থাৎ কমল।
জোশীমঠে ত্রাণ দিতে আসছিলেন, ৫০০ মিটার গভীর খাদে পড়ল গাড়ি! মৃত্যু কেরলের পাদ্রীর