
শেষ আপডেট: 18 January 2025 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ালপোখেরে পলাতক বিচারাধিন বন্দিকে জীবিত অবস্থায় ধরার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছিল পুলিশ। কিন্তু যেভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে অভিযুক্ত গুলি চালাতে শুরু করেছিল তাতে বাধ্য হয়েই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালিয়েছে। তারই জেরে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ সীমান্তে এনকাউন্টারে অভিযুক্ত পলাতক বন্দির মৃত্যু হয়েছে বলে জানালেন রাজ্য পুলিশের এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম।
অন্যদিকে, সাজ্জাককে ভুয়ো এনকাউন্টারে মারা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। মৃত্যুর ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করছেন এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূর। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন।
সঙ্গঠনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, 'সাজ্জাককে যে ভুয়ো এনকাউন্টারে মারা হয়েছে তা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। বিশেষ করে গত পরশু ডিজি রাজীব কুমারের চারগুণ গুলি চালাবার নিদান দেওয়ার পরই ভুয়ো সংঘর্ষে সাজ্জাককে মারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।'
গত বুধবার আদালত থেকে জেলে ফেরার সময় রাস্তায় শৌচালয় যাওয়ার নাম করে গোয়ালপোখরের পাঞ্জিপাড়ার কাছে পুলিশকে গুলি চালিয়ে পালিয়েছিল বিচারাধিন বন্দি সাজ্জাদ আলম। তার গুলিতে জখম হয়েছিলেন দুই পুলিশ কর্মী নীলকান্ত সরকার ও দেবেন বৈশ্য। এরপরই বৃহস্পতিবার জেলায় পৌঁছে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাহিনীর মনোবল বাড়াতে ডিজি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, 'এবার থেকে পুলিশও গুলি চালাবে। দুষ্কৃতী ২ রাউন্ড গুলি চালালে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলি ছুড়বে'।
ডিজির হুঁশিয়ারির পরই অবশেষে পুলিশের কড়া পদক্ষেপ বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ওই এনকাউন্টারের বিষয়েই বিস্তারিত জানান এডিজি আইনশৃঙ্খলা। একই সঙ্গে ওও স্পষ্ট করে দেন, অপরাধীদের রেয়াত করার প্রশ্নই নেই।
পুলিশ সূত্রের খবর, পলাতক বন্দির খোঁজে অন্তত ২০টি টিম তল্লাশিতে নেমেছিল। নজর রাখা হচ্ছিল সিসিটিভিতেও। তারই ভিত্তিতে বাংলাদেশ সীমান্তে সাজ্জাদের গতিবিধি জানতে পারেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের দাবি, পুলিশকে দেখে সীমান্ত টপকে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত বন্দি। এমনকী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিও চালায়। পুলিশের তরফেও পাল্টা গুলি চালানো হয়। পরে ইসলামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সাজ্জাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সূত্রের খবর, তিনটি গুলি লাগে সাজ্জাদের দেহে।