এক কিলোমিটার রাস্তার একটু কম অঞ্চল জুড়ে রথ টানা হবে। এই নিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বলেন, মন্দির থেকে জগন্নাথের মাসির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুদিকে দুটি রথের দড়ি থাকবে।

দিঘায় রথযাত্রার প্রস্তুতি তুঙ্গে
শেষ আপডেট: 27 June 2025 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দিঘায় প্রথমবারের জন্য গড়াবে রথের চাকা (Digha Rathyatra)। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে চাক্ষুষ করার জন্য কয়েক দিন আগে থেকেই দিঘায় উপচে পড়ছে ভিড়। অনেকের আশা, রথের রশিতে টান দেওয়ার। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না। এমনটাই জানিয়েছেন জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত।
রথ টানতে পারবেন না সাধারণ মানুষ। রথ টানবেন সাধু-সন্তরা। সর্বসাধারণের সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমন দাস (Radharaman Das)। যদিও তিনি এও জানান, সাধারণ মানুষ যাতে কোনও ভাবেই বঞ্চিত না হন, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই জানা গেছে, এক কিলোমিটার রাস্তার একটু কম অঞ্চল জুড়ে রথ টানা হবে। এই নিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের (Digha Jagannath Temple) প্রধান পুরোহিত বলেন, মন্দির থেকে জগন্নাথের মাসির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুদিকে দুটি রথের দড়ি থাকবে। ফলে সরাসরি রথ না টানতে পারলেও সেই দড়ি ধরার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। রাস্তার ধারে থাকা ব্যারিকেডেই থাকবে সেই দড়ি। তা ছুঁয়েই সাধারণ মানুষকে রথ টানার অনুভূতি নিতে হবে।
আসলে পুরো ব্যবস্থাই করা হয়েছে আমজনতার সুরক্ষার জন্য। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত দিঘায় ৩০ লক্ষের বেশি ভিড় হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাধারমণ দাস। তাঁর কথায়, প্রতিদিন অন্তত ২৫-৩০ হাজার মানুষ তো আসছেনই। আর রথযাত্রা উপলক্ষে যে দিঘায় ভিড় আরও বেশি হবে তা বলাই বাহুল্য। তাই সাধারণ মানুষ, দর্শনার্থীদের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, কাউকে যাতে সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেই দিকে নজর দিয়েই এই ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানান প্রধান পুরোহিত।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই দীঘায় পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। প্রশাসনের হিসাবে সংখ্যাটা ছাড়িয়ে যেতে পারে দুই লক্ষেরও বেশি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে রথযাত্রার সূচি ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেছেন। এদিন দুপুর দুটোয় মুখ্যমন্ত্রী নিজে অংশ নেবেন রথের সামনে আয়োজিত বিশেষ আরতিতে। এরপর তিনি হাতে তুলে নেবেন সোনার ঝাড়ু, যার জন্য তিনি নিজে দিয়েছেন ৫ লক্ষ ১ টাকা। দেবতার যাত্রাপথ নিজে ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করবেন তিনি।
দুপুর আড়াইটের সময়, শুরু হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ — যখন মাসির বাড়ির উদ্দেশে গড়াবে রথের চাকা।