
শেষ আপডেট: 30 June 2020 18:30
মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌরঝড়ের হাত থেকে পৃথিবীকে কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার। এখান তড়িৎ-চুম্বকীয় কণার স্রোত ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যদিও সৌড়ঝড়ের দাপট বেশি হলে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলগুলিতেও। কিন্তু চাঁদে পৃথিবীর মতো এমন সুরক্ষার আবরণী নেই। তার ভরসা পৃথিবীর আঁচলই। কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ যখন পৃথিবীর পিছনে চলে যায় তখন তার সামনে একটা সুরক্ষার বর্ম তৈরি হয়। সেই সময় যদি মহাশূন্যে সৌরঝড় ধেয়ে আসে তাহলে চাঁদের খুব একটা ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু সবসময় তো আর পৃথিবীর আঁচলে ঢাকা থাকে না চাঁদ। তাই বিপদের একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২৫% সময় পৃথিবীর পিছনে থাকে চাঁদ, সেই সময় পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের ছত্রছায়ায় তার সুরক্ষার ব্যবস্থা হয়ে যায়। কিন্তু নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, সবসময় এটা হয় না। পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ার চাঁদকে সবসময় বাঁচাতে পারে না।
রহস্য জানা সম্ভব হবে বলে দাবি করেছিলেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। সূর্যের পিঠ হল সারফেস আর তার বায়ুমণ্ডলের একেবারে উপরের স্তরকে বলে করোনা। র্যের পিঠের তাপমাত্রা ৬ হাজার ডিগ্রি কেলভিনের মতো। আর করোনার তাপমাত্রা কোথাও ১০ লক্ষ ডিগ্রি কেলভিন। কোথাও বা তারও অনেক বেশি। আর কেন্দ্রে বা কোরে তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডিগ্রি কেলভিনের মতো। সূর্যের পিঠে গ্যাসের ঘনত্বও অনেক বেশি। করোনার ততটা নয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্যের বাইরের স্তর বা করোনাতে থাকে উচ্চতাপযুক্ত প্লাজমার আবরণ, যার থেকে মাঝেমধ্যেই তড়িদাহত কণার স্রোত বেরিয়ে আসে এবং ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। একে বলে সৌরঝড় (Solar Storm)। শুধু মহাকাশই নয়, সেই কণার স্রোত প্রভাবিত করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকেও। তড়িহাদত কণার স্রোত পৃথিবীর মেরু অঞ্চল দিয়ে বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে প্রবেশ করে। ফলে আকাশে রং-বেরঙের খেলা দেখা যায়, যাকে মেরুজ্যোতি (অরোরা) বলে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, এই করোনা থেকেই বেরিয়ে আসছে সৌরঝড়, সৌরবায়ু, সৌরকণারা। এর গতিবিধি আবার সন্দেহজনক। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকেও তাদের নজর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌরপৃষ্ঠের গঠন ভাল করে দেখতে পেলে এবং করোনার উপর নজর রাখা সম্ভব হলে এই সৌরকণা ও সৌরঝড়ের আগাম আভাস পাওয়া যেতে পারে। সৌরকণারা কখন ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে এসে আছড়ে পড়তে পারে, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা আরও সঠিক তথ্য দিতে পারবেন। সৌরপদার্থবিজ্ঞানীরা বলছেন, অসম্ভব শক্তিশালী সৌরকণারা যদি কোনওভাবে পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি চলে আসে তাহলে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। সৌরকণাদের সম্মিলিত শক্তি যদি বেশি হয়, তাহলে পৃথিবীর রেডিও বা টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিতে পারে। পৃথিবীর কাছাকাছিই রয়েছে চাঁদ। তাই এর প্রভাব পড়তে পারে চাঁদেও। আর চাঁদে যেহেতু চৌম্বকক্ষেত্রের বর্ম নেই তাই সরাসরি সৌরঝড় ধাক্কা দিতে পারে। নাসা জানাচ্ছে, এই সৌরঝড়ের উপর পর্যবেক্ষণ বাড়ালে চাঁদে মানুষের পা দেওয়ার আগে একটা সুরক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।