
শেষ আপডেট: 13 July 2020 18:30
এই সোলার অরবিটার মিশনের গবেষণা ও প্রস্তুতি দীর্ঘ সাত বছরের। ১৬ জুলাই যে ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হবে তার ঘোষণা গত কয়েকদিন ধরেই করছে নাসা ও ইএসএ। সোলার অরবিটার মিশনের সাফল্যেকে মেলে ধরতেই গত মাসে সূর্যের টাইমল্যাপ্স ভিডিও সামনে এনেছিল নাসা। সোলার ডায়ানামিক্স অবজারভেটরিরর তোলা সূর্যের ৪২.৫ কোটি হাই রেজোলিউশন ছবি সাজিয়ে সেই ভিডিও তৈরি হয়। অর্থাৎ নাসা যে এক মূহূর্তের জন্যও সূর্যকে কাছছাড়া করছে না, ঠায় তার দিকেই নজর রেখে বসে আছে, এই টাইমল্যাপ্স ভিডিও আসলে তারই বার্তা। তবে এবার আর অবজারভেটরির তোলা ছবি নয়, একেবারে কাছাকাছি গিয়ে সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বড় সেলিব্রিটির ঝাঁ চকচকে ছবি তুলে আনবে সোলার অরবিটার।
শুধু কি ছবি? সোলার অরবিটারের কাজ অনেক। সূর্য থেকে ছিটকে আসা ক্ষ্যাপাটে এলোমেলো তড়িদাহত কণাগুলোর চরিত্রও বোঝার চেষ্টা করবে সোলার অরবিটার। এই অরবিটারে রয়েছে থ্রি-অ্যাক্সিস স্টেবিলাইজ়ড প্ল্যাটফর্ম। সূর্যের আগুনে তেজ সইবার জন্য বিশেষ রকমের হিট-শিল্ড। ২১ রকমের সেন্সর ছাড়াও সোলার অরবিটার ম্যাগনেটোমিটার (MAG), সোলার উইন্ড অ্যানালাইজার (SWA), এক্সট্রিম আলট্রাভায়োলেট ইমেজার (EUI) ইত্যাদি নানারকম যন্ত্রপাতি। পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য লো-গ্রেড অ্যান্টেনা ও হাই-টেম্পারেটার হাই-গেন অ্যান্টেনা রয়েছে।
পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশন যেখানে ছবি ও বার্তা পাঠাবে সোলার অরবিটার সেগুলি ছড়িয়ে আছে নানা দেশে। সবগুলোই ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির অধীনে। যেমন ইএসএ স্পেস ট্র্যাকিং স্টেশন নেটওয়ার্ক, মিশন অপারেশন সেন্টার (MOC), জার্মানি, সায়েন্স অপারেশন সেন্টার (SOC)স্পেন ইত্যাদি।
নাসার বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সূর্যের সংসারের নানা খবর পাঠাবে সোলার অরবিটার। কাছ থেকে গিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে কেন এত অশান্তির ঝড় ওঠে সূর্যের সংসারে। কেন দুরন্ত বেগে ছিটকে আসে সৌরবায়ু। প্রোটন ও ইলেকট্রনের সমন্বয় এই সৌরবায়ু প্রবল গতিবেগে ছিটকে বেরিয়ে আসে সূর্যের প্লাজমা থেকে। এর গতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। তাপমাত্রা প্রায় ১০ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের উত্তপ্ত সোলার করোনার জন্যই এই সৌরবায়ুর জন্ম হয়। এর মধ্যেকার শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও আয়নগুলো পৃথিবীর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও জিপিএস নেটওয়ার্ককে তছনছ করে দিতে পারে। সৌরঝড় (সোলার স্টর্ম) যার দ্বারা স্যাটেলাইটগুলো আক্রান্ত হয় ও টেলি যোগাযোগে বড় ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি, বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্যও দায়ী এই সৌরবায়ু, সৌরঝড় এবং সৌর বিকিরণ। এই সৌরঝড় কোন পথে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে তারও খোঁজখবর নেবে সোলার অরবিটার।