
শেষ আপডেট: 5 August 2023 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখের সামনে ছেলের মৃত্যু দেখেছেন। ঘাতক ট্রাক নির্মমভাবে পিষে (Behala Accident) দিয়ে গেছে ছোট্ট ছেলেটাকে (Souranil Sarkar)। বাঁচাতে পারেননি বাবা। নিজের অবস্থাও সঙ্কটজনক। কোনও মতে প্রাণে বাঁচলেও হাসপাতালে শয্যাশায়ী। দুই পায়েরই হাড় ভেঙেছে। এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে বুকফাটা হাহাকার করছেন সৌরনীল বাবা সরোজ সরকার। ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু ক্রমেই ট্রমায় ঠেলে দিচ্ছে তাঁকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরোজবাবু মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে এই মুহূর্তে তাঁর অপারেশন করা সম্ভব নয়। আর একটু স্থিতিশীল হলে তবেই সার্জারি করবেন ডাক্তাররা।
লরির ধাক্কায় দুই পায়েরই হাড় ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। দুই পা-তেই অপারেশন করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁকে রক্ত দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সরোজবাবু সাঙ্ঘাতিক ট্রমায় রয়েছেন। তাঁর অস্থিরতা এতটাই যে চিকিৎসা করে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা হচ্ছে। ছেলেকে হারানোর মানসিক যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে তাঁকে। প্রতি মুহূর্তেই ছটফট করছেন সন্তানহারা বাবা। একেই এমন মানসিক যন্ত্রণা, তার উপর দুই পাই ভীষণভাহে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই সরোজবাবুর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে তাঁর দুই পায়ে অপারেশনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।
বেহালার বড়িশা হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল সৌরনীল। তার বাড়ি হরিদেবপুরে। রোজ সকালে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতেন সৌরনীলের বাবা। শুক্রবারও তেমনই যাচ্ছিলেন। বেহালার চৌরাস্তার মোড়ে রাস্তা পেরনোর সময়ে বেপরোয়া গতির মাটি বোঝাই লরি পিষে দিয়ে চলে যায় সৌরনীল ও তার বাবাকে! ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৭ বছরের শিশুটির। গুরুতর জখম হন বাবা। তার পর থেকেই হাসপাতালে শয্যাশায়ী।
আরও পড়ুন: বেহালার ঘা শুকোয়নি, নদিয়ায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রকে পিষে দিল গাড়ি
এদিকে দুর্ঘটনার পর এদিন সকাল থেকে ভোলবদলে গিয়েছে বেহালার সেই চৌরাস্তার। রাস্তার প্রত্যেক জায়গায় পুলিশ প্রহরা। রাস্তার পেরোনোর জন্য যেসব জায়গা সেখানে একাধিক ড্রপগেট বসানো হয়েছে। ব্যারিকেড দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, যেখান সেখান থেকে রাস্তা পেরোনো যাবে না। জেব্রা ক্রসিং ধরে যাতে পথচারীরা রাস্তা পেরোন তা নিশ্চিত করছে পুলিশ। বাস বা অটোয় ওঠার জন্য নির্ধারিত জায়গায় দাঁড়াচ্ছেন যাত্রীরা। এমন পুলিশি তৎপরতা দেখে স্থানীয়দের একাংশও আক্ষেপের সুরে বলছেন, আগেই যদি পুলিশের এই তৎপরতা থাকতো তাহলে হয়তো সৌরনীলকে এভাবে অকালে চলে যেতে হত না।