
শেষ আপডেট: 31 December 2023 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং বনাম জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের কোন্দলে ইতি টানতে শনিবার নৈহাটিতে দু'জনকে নিয়ে বৈঠকে বসতে চেয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। অর্জুন উপস্থিত হলেও সুব্রত বক্সীর ডাকা ওই বৈঠকে উপস্থিত হননি সোমনাথ। বরং ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে হলুদ ফাইল প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি দিলেন সোমনাথ।
নোয়াপাড়ার শহর তৃণমূল সভাপতি গোপাল মজুমদার খুনের ঘটনার ফাইল ফের ওপেন করে মূল চক্রীকে গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার সরব হয়েছেন জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। এই প্রসঙ্গেই একাধিক খুনের হলুদ ফাইল খুলে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়েরর মুখোশ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমনাথ বলেন, "অপরাধীকে রেয়াত করা হবে না। অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে খুনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ওই হলুদ ফাইলগুলো আমি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেব।"
কয়েকদিন আগেও হলুদ ফাইল ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সোমনাথ। তবে দলের রাজ্য নেতৃত্ব এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার পরও ফের প্রকাশ্যে তার মুখ খোলাকে ঘিরে দলের অন্দরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও সোমনাথের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে এদিন নতুন করে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অর্জুন সিং। তিনি বলেন, "যা বলছে বলুক, দল সিদ্ধান্ত নেবে> আমি দলের সৈনিক, সুব্রত বক্সী আমাকে কিছু বলতে বারণ করেছেন, তাই আমি কিছু বলব না।"
সাংসদ বনাম বিধায়কের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত, মাস দেড়েক আগে দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল জগদ্দলের তৃণমূল নেতা ভিকি যাদবের। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত ২১ ডিসেম্বর অর্জুন সিংয়ের আত্মীয় পাপ্পু যাদব ওরফে সঞ্জীব যাদবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে সমাজবিরোধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন জগদ্দলের বিধায়ক।
পাল্টা আক্রমণ করেন অর্জুন সিংও। তিনি সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দাদাগিরির অভিযোগ আনেন। প্রকাশ্য সভায় তাঁকে 'পোল্ট্রি মুরগি' বলে কটাক্ষ করেন। পাল্টা আক্রমণ শানান সোমনাথও। জেলার রাজনীতিতে মাথা চাড়া দিয়েছে গোষ্ঠী কোন্দল। বলা চলে, কেউ কারও মুখ দেখেন না। একে অপরের সঙ্গে একই ফ্রেমে পাওয়া যায় না তাঁদের।
তৃণমূলের অন্দরেই খবর, এই দ্বন্দ্বের জেরেই ওই এলাকায় সুবিধা পাচ্ছে বিজেপি। এমনকী সংগঠনেও বড় ধাক্কা খাচ্ছে। তাই শীর্ষ নেতৃত্বই অর্জুন-শ্যামের ঝামেলা মেটাতে উদ্যোগী হন। দু'জনকে এক টেবিলে বসিয়ে মিটমাট করানোর চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি।
দু'দিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনায় কর্মিসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, 'পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। সিনিয়র লিডারদের যোগ্য মর্যাদা দিতে হবে। নতুনদেরও দরকার। আমি কোনও ঝগড়া বরদাস্ত করব না। কেউ যদি ভাবে লোকালি বড় নেতা হয়ে গেছি, পার্টিটাকে না ভালবেসে নিজেকে ভালবাসব, তাহলে সেটা তৃণমূলে হবে না।'