কাজ ভাল লাগছে না, মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে 'চা-ওয়ালা' হলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়র
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা চাকরি করে যেতে অনেকেরই ভাল লাগে না তবু রুটি-রুজির জন্য করতে হয়। যে কাজ করেন সেই কাজে মনের টান নেই এমন নজিরও অনেক। কিন্তু তাই বলে চাকরিবাকরি ছেড়ে দিয়ে চায়ের দোকান দেওয়ার নজরি খুব বেশি নেই। অনেকেই চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করত
শেষ আপডেট: 1 September 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা চাকরি করে যেতে অনেকেরই ভাল লাগে না তবু রুটি-রুজির জন্য করতে হয়। যে কাজ করেন সেই কাজে মনের টান নেই এমন নজিরও অনেক। কিন্তু তাই বলে চাকরিবাকরি ছেড়ে দিয়ে চায়ের দোকান দেওয়ার নজরি খুব বেশি নেই। অনেকেই চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করতে গেলেও এবার এক মোটা মাইনের চাকুরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়র চায়ের দোকান দিয়ে নেটিজেনদের নজরে এসেছেন। এই উদ্যোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই হলেও সেই ব্যক্তিটি কে তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি।
আরও পড়ুন
মালিককে চিহ্নিত করা না গেলেও রাস্তার ধারের সেই চায়ের দোকানের ছবি রীতিমতো ভাইরাল। জানা গিয়েছে, এই ইঞ্জিনিয়র চা-ওয়ালা অনেক নামী কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। ছিলেন উইপ্রোতেও। সেখানে তার আর্থিক প্রাপ্তি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও কম ছিল না। কিন্তু মনে শান্তি ছিল না। কাজে মন বসত না। শেষে তাই চাকরির নিরাপত্তা ছেড়ে রাস্তার ধারে চায়ের দোকান দিয়েছেন।
এমন চায়ের দোকান তো কতই আছে কত রাস্তার ধারে। কিন্তু এই দোকানটির ছবি ভাইরাল হয়েছে তার নাম এবং পরিচিতি ঘোষণার জন্য। দোকানের নাম-- ইঞ্জিনিয়র চা-ওয়ালা। চায়ের পাশাপাশি ওই দোকানে সাউথ ইন্ডিয়ান কফি পাওয়া যায়। দাম ১৫ টাকা। এছাড়াও দু'রকমের চা মেলে এই দোকানে। ইমিউনিটি চা এবং মসালা চা। দু'টিরই দাম কাপ প্রতি ৮ টাকা। এছাড়াও নাগপুরি নরি পোহা বিক্রি হয় ১২ টাকা প্লেট হিসেবে।
এই দোকানের ছবি প্রথম টুইট করেন আইএএস অফিসার অবনীশ শরণ। তিনি সেখানে লেখেন, "আজকের সময়ে এত সততা কম দেখা যায়। নিজের সব কথা ইনি বলে দিয়েছেন।"
https://twitter.com/AwanishSharan/status/1300104356595785728
ইঞ্জিনিয়র চা-ওয়ালার পরিচয় থেকে এই দোকান খোলার কারণ সবই লেখা রয়েছে টি স্টলের গায়ে। সেখানে লেখা রয়েছে, "আমি এমনিতে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়র। আমি উইপ্রো-সহ অনেক সংস্থাতেই চাকরি করেছি এবং অনেক টাকা বেতন পেয়েছি। কিন্তু শান্তি পাইনি। প্রতিদিন আমার টেবিলে চায়ের কাপ রাখা থাকত, কিন্তু সেই চাটা আমি কোনওদিন পাইনি যেটাকে দারুণ কিছু বলা যাবে। আমি বরাবরই ভাল চায়ের ভক্ত। আমি তাই চেয়েছিলাম এমন একটা জায়গা হবে যেখানে গেলে মানুষ মনের মতো চা পাবে। সেই কারণেই আমি চায়ের দোকান দিয়েছি আর নিজে হয়েছি ইঞ্জিনিয়ার চা-ওয়ালা।"
এই ইঞ্জিনিয়র চা-ওয়ালা ঠিক কে তা জানা না গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলেছেন দোকানটি মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরে। মনের মতো কাজের খোঁজে চাকরি ছেড়ে চায়ের দোকান দেওয়ার উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ দিয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, জীবনে কাজের মধ্য দিয়ে তৃপ্তি পেতে চায় সকলেই। কিন্তু এমন সাহস আর ক'জন দেখায়!