দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল, কৃষি আইনের প্রতিবাদে অনশনে বসছেন বর্ষীয়ান সমাজকর্মী আন্না হাজারে। কিন্তু শুক্রবার তিনি শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উপস্থিতিতে তিনি জানালেন, অনশনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। একইসঙ্গে তিনি কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারকেও সমর্থন করেন।
৮৩ বছর বয়সী গান্ধীবাদী আন্না হাজারে এদিন বলেন, "আমি দীর্ঘদিন ধরে নানা ইস্যুতে আন্দোলন করে এসেছি। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা অন্যায় নয়। আমি তিন বছর ধরে কৃষকদের নানা দাবিদাওয়া তুলে ধরেছি। কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না বলেই আত্মহত্যা করেন। সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
পরে তিনি বলেন, "সরকার কৃষকদের দাবি মেনে ১৫ টি ইস্যু নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই আমি অনশনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছি।" প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে আন্না হাজারে জানিয়েছিলেন, জানুয়ারির শেষ থেকে তিনি আমরণ অনশনে বসছেন। এর আগে ২০১১ ও ২০১২ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি দিল্লিতে অনশন করেন।
বৃহস্পতিবার শোনা যায় গাজিপুরের ধরনাস্থল থেকে কৃষকদের তুলে দেওয়া হবে। তাঁদের একাংশ ফিরে যাচ্ছিলেন। এরপর কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েতের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে দেখা যায়, কৃষক নেতা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলছেন, বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়াবেন। তখন উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার নানা জায়গা থেকে কৃষকরা ফের গাজিপুরের দিকে যাত্রা শুরু করেন।
উত্তরপ্রদেশের শীর্ষস্থানীয় পুলিশকর্তা প্রশান্ত কুমার বলেন, গাজিপুর থেকে কৃষকদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু ধরনাস্থল থেকে কৃষকদের হটিয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল না। আন্দোলনে যাতে সমাজবিরোধীরা না ঢুকে পড়তে পারে, সেজন্যই বাড়তি ফোর্স পাঠানো হয়েছিল।
ড্রোন থেকে তোলা ছবিতে দেখা যায়, মুজফফরনগরের কলেজ মাঠে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। বৃহস্পতিবার শোনা যায়, এদিন রাতেই গাজিপুর থেকে অবস্থান তুলে দিতে পারে পুলিশ। তার পরেই বিকেইউ নেতা রাকেশ টিকায়েতের ভাই নরেশ মুজফফরনগরে মহাপঞ্চায়েতের ডাক দেন। সেখানে বিশাল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়। গাজিপুর থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে মুজফফরনগরে ওই জমায়েত দেখে উদ্বিগ্ন হয়েছে যোগী প্রশাসন।
শুক্রবার সিংঘু ও টিকরিতে কৃষক জমায়েত থেকে গণ্ডগোলের খবর আসে। সিংঘুতে ২০০ জনের একটি দল, বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দা, তারা আচমকা পাথর ছুড়তে শুরু করে আন্দোলনস্থলে। ভাঙচুর করা হয় কৃষকদের তাঁবু। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা লড়তে থাকেন কৃষকরাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। সামাল দিতে নামে পুলিশ ও ব়্যাফ বাহিনী। কৃষকনেতারাও শান্তির জন্য আবেদন করতে থাকেন। কিন্তু অভিযোগ, মারমুখী জনতা পরোয়া করেনি কোনও কিছুকেই। কৃষকদের এলাকা ছেড়ে দিতে হবে এই দাবি করে ব্যাপক মারধর, ভাঙচুর চালায় তারা।