কমিশনের নোটে বলা হয়েছে, বিএলও (BLO), ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO)—যাঁরা নথি স্ক্যান ও আপলোড করেন, তাঁদের ব্যবহৃত পদ্ধতির তারতম্যের জেরে ডিজিটাল বিশ্লেষণ এবং আসল কাগজপত্রের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 20 February 2026 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় (Voter List) বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR West Bengal) ও শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক অভিযোগের আবহে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ওয়েবসাইটে জুড়ে দেওয়া হল নতুন একটি সতর্কবার্তা। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নথি স্ক্যান বা আপলোড করার পদ্ধতিতে ভিন্নতার কারণে সফটওয়্যারে যে বিশ্লেষণ দেখা যাচ্ছে, তা এনুমারেশন ফর্মের হার্ড কপি, ফিল্ড রিপোর্ট বা শুনানির সময় ভোটারদের জমা দেওয়া নথির সঙ্গে হুবহু নাও মিলতে পারে।

কমিশনের নোটে বলা হয়েছে, বিএলও (BLO), ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO)—যাঁরা নথি স্ক্যান ও আপলোড করেন, তাঁদের ব্যবহৃত পদ্ধতির তারতম্যের জেরে ডিজিটাল বিশ্লেষণ এবং আসল কাগজপত্রের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই ব্যবহারকারীদের নিজেদের বিবেচনা করে সব তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, কিছু ক্ষেত্রে শুনানিতে জমা দেওয়া নথি আপলোডই করেনি বিএলও (BLO), ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO)। যে কারণে আসল কাগজপত্র ও ডিজিটাল কাগজপত্রের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই কারণেই কমিশন এই নতুন নোট দিয়েছে।
অর্থাৎ, সফটওয়্যারে যা দেখা যাচ্ছে, তা-ই চূড়ান্ত নয়। শুনানিতে জমা পড়া কাগজপত্র ও মাঠপর্যায়ের রিপোর্টও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের এই নতুন নোট যুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা যাচাই ঘিরে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসার প্রেক্ষিতে এই সতর্কবার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ও সুপার চেকিং পর্বে (Super Checking) একের পর এক অস্বাভাবিকতা সামনে আসছে। কোথাও বাবার ভোটার কার্ড এআই (AI Voter Card) দিয়ে তৈরি, কোথাও জন্মের ছ’দিন আগে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু, আবার কোথাও ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত ব্যক্তির নাম নথি-সহ সিস্টেমে আপলোড করে ‘ওকে’ করে দেওয়া হয়েছে। এই সব অভিযোগ প্রথম সামনে আনে দ্য ওয়াল। এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও দু’টি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৩৫ নম্বর মন্দিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের পার্ট নম্বর ০১–এর শুনানি হয় ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, টেকপাঞ্জা হাই স্কুলে। নোটিস পাওয়া এক ভোটার নির্ধারিত তারিখের আগেই মারা যান। শুনানির দিন তাঁর ছেলে উপস্থিত হয়ে জানান, তাঁর বাবা প্রয়াত হয়েছেন—সেই তথ্য জানাতেই তিনি এসেছেন। সংশ্লিষ্ট নথিতে তখনই ‘মৃত’ লিখে চিহ্নিত করা হয়। হাজিরা খাতাতেও ‘Death’ লেখা হয়। অভিযোগ, এই নথিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেননি।
কিন্তু পরে দেখা যায়, ওই ‘মৃত’ ভোটারের নাম ও নথি কমিশনের সিস্টেমে আপলোড করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) তা যাচাই করেছেন। ইআরও-এইআরও অ্যাকশনে লেখা হয়েছে ‘Found OK’ ও ‘Remarks OK’। অর্থাৎ, মৃত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তির নথিই শেষ পর্যন্ত সিস্টেমে গ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে। যা নিয়ে কমিশনের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রেও অন্য ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। জান্নাতুল মোল্লা নামে এক ভোটার এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়ে বাবার নাম হিসেবে হাসেম মোল্লাকে যুক্ত করেন। বাবার পরিচয়পত্র হিসেবে জমা পড়ে একটি ভোটার কার্ড। কমিশনের যাচাইয়ে জানা যায়, সেটি এআই-জেনারেটেড—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়ো নথি। এমনকি কার্ডে হাসেম মোল্লার ছবির নীচে গুগল জেমিনাইয়ের ‘এআই’ লোগোও দেখা যায়।
এ নিয়ে ভাঙড় ১৪৮–এর রোল অবজার্ভারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। এলডি (LD) মামলার যাচাই চলাকালীন পার্ট ২১৬–এ এই নথি ধরা পড়ে বলে অভিযোগ। কিন্তু বিষয়টি নজরে এলেও এইআরও ‘Found OK’ বলে চিহ্নিত করেছেন। কমিশনের বক্তব্য, এ ধরনের নথি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার নির্বাচনী ব্যবস্থার পক্ষে উদ্বেগজনক।