সিইও দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, "এখন সফটওয়্যারের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশন ২৪ তারিখ বলেছে মানে এটা নয় যে আজকেই করতে হবে। আদালত কিছু তারিখ দেয়নি।"

শেষ আপডেট: 24 January 2026 21:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (logical discrepancies) তালিকা প্রকাশের দাবি বারবার উঠছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেন, ৫৮ লক্ষের নাম তো আগেই বাদ চলে গিয়েছে। আর লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে ১ কোটি ৩৬ লক্ষের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই আবহে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে বড় নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আজ শনিবার সেই তালিকা প্রকাশের শেষ দিন ছিল। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও তালিকা সামনে আনেনি কমিশন।
সিইও দফতর (CEO West Bengal) সূত্রে বলা হচ্ছে, "এখন সফটওয়্যারের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশন ২৪ তারিখ বলেছে মানে এটা নয় যে আজকেই করতে হবে। আদালত কিছু তারিখ দেয়নি।"
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, কমিশনকে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে সংশ্লিষ্ট তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার বা নির্দিষ্ট অফিস খুলতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ নথি জমা দিতে পারবেন এবং আপত্তি জানাতে পারবেন।
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের নিজেরই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থাকা সত্ত্বেও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকা এখনও প্রকাশ না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডে ওই তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ থাকলেও নির্বাচন কমিশন (ECI) তা মানেনি।
অভিষেকের প্রশ্ন, যে সফটওয়্যার ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যেই নাকি ৭ কোটিরও বেশি এনুমারেশন ফর্ম বিশ্লেষণ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ চিহ্নিত করতে পেরেছিল, সেই সফটওয়্যার এখন হঠাৎ করেই তার যুক্তি, গতি, বিশ্বাসযোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে?
এই প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনটি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। প্রথমত, নির্বাচন কমিশন ঠিক কী লুকোতে চাইছে? দ্বিতীয়ত, যদি এক ঘণ্টার মধ্যেই ডিসক্রিপেন্সি ধরা পড়ে, তবে তা প্রকাশ করতে কেন দিনের পর দিন সময় লাগছে? এবং তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশন কি সত্যিই যুক্তি খুঁজছে, না কি ইচ্ছাকৃতভাবে এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ আড়াল করার চেষ্টা চলছে?