এসআইআর আতঙ্কের কারণে এই “রিটার্নের ঢেউ” শুধু সীমান্তের ঘটনাই নয়; এটি প্রতিফলিত করছে মানুষের জীবনের ভয়, রাজনৈতিক চাপ এবং আইনি জটিলতার ছায়া।
_0.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 November 2025 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ (SIR)। তারই জেরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিরা হঠাৎই ফিরে যাচ্ছে নিজের দেশ, দলে দলে (Returning from India to Bangladesh)। কেউ দু’বছর ধরে, কেউ দশ বছর, কেউ তারও আগে ভারতে এসেছে। কিন্তু এসআইআর (SIR) শুরু হতেই সীমান্তে বাড়ছে ভিড় (Hakimpur border)।
সীমান্তের ধারে বসে থাকা মানুষগুলো হাতে ব্যাগ, কম্বল, ছোট বড় ট্রলি, যেন পুরো জীবনটাই এক মুঠোয় বাঁচিয়ে এনেছে। অনেকেই আছেন, যাদের ভারতীয় নথি নেই, আবার অনেকের কাছেই নাগরিকতার কোনও প্রমাণ নেই। শ্রমিক, কলকারখানার মজুর, ইটভাটার হালকা কাজকর্ম—প্রতিটি পরিচিতি তাদেরকে ভারতীয় সমাজে কিছুটা হলেও মিশিয়ে রেখেছিল।
কিন্তু এখন ভয়। গুজব, আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা—এসআইআরের শুরুর পর মানুষ ভয়ে দলে দলে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছাকাছি ২৭০–৩০০ জন মানুষ ইতিমধ্যেই দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছে। কেউ সকালেই এসেছে, কেউ রাতের অন্ধকারে পৌঁছেছে। শিশুকন্যার কান্না, মায়ের উদ্বেগ, বৃদ্ধের ক্লান্ত মুখ—সবই এই “রিটার্নের ঢেউ”-কে আরো হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।
বিএসএফ ইতিমধ্যেই ৩০০ জনকে আটক করেছে, যাদের অধিকাংশের নথি নেই। সীমান্ত পেরোতে গিয়ে ধরা পড়েছে ৪৫ জন। স্থানীয়রা বলছেন, হঠাৎ করে ফিরে আসা এই মানুষগুলো মূলত সাতক্ষীরা, খুলনার গ্রামের বাসিন্দা।
এই পরিস্থিতি কেবল সীমান্ত নিরাপত্তার নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও উদ্বেগের। অনেকেই কুঁড়ে ঘরে বা খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছেন। শিশুরা কোলে, বৃদ্ধরা ক্লান্ত! সঙ্গে একরাশ আশঙ্কা, নিজের দেশে ফিরেও সুরক্ষিত থাকা যাবে তো!