সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, এক ভোটার তাঁর বাবার পরিচয়ের নথি হিসেবে এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি) ভুয়ো ভোটার কার্ড (Voter Card) জমা দিয়েছেন।

সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 19 February 2026 20:39
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ও যাচাই প্রক্রিয়ায় ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র (এসি–১৪৮) ঘিরে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য এবার বেরিয়ে এলো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, এক ভোটার তাঁর বাবার পরিচয়ের নথি হিসেবে এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি) ভুয়ো ভোটার কার্ড (Voter Card) জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জান্নাতুল মোল্লা নামে এক ভোটার এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) জমা দিয়ে বাবার নাম হিসেবে হাসেম মোল্লার সঙ্গে লিঙ্ক করিয়েছেন। হাসেম মোল্লার পরিচয়পত্র হিসেবে যে নথি জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে একমাত্র ভোটার কার্ডই সংযুক্ত ছিল। কমিশনের যাচাইয়ে জানা যায়, ওই ভোটার কার্ডটি এআই ব্যবহার করে তৈরি। কার্ডে হাসেম মোল্লার ছবির নীচে গুগল জেমিনাইয়ের ‘এআই’ লোগোও (AI Logo) দেখা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, যে এপিক (EPIC) নম্বরটি কার্ডে দেওয়া রয়েছে, তার কোনও অস্তিত্বই নেই—অর্থাৎ ওই নম্বরে বাস্তবে কোনও ভোটার কার্ড ইস্যুই হয়নি। ফলে অভিযোগ উঠেছে, জান্নাতুল মোল্লা তাঁর বাবার পরিচয়ের নথি হিসেবে যে কার্ড জমা দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙর ১৪৮-এর রোল অবজার্ভারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে জানানো হয়েছে, এলডি (LD) মামলার যাচাই চলাকালীন ভাঙর এসি–১৪৮-এর পার্ট ২১৬-এ এমন ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক ভোটার তাঁর বাবার নামে এআই-তৈরি ভোটার আইডি ব্যবহার করেছেন। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ভোটার আইডি নম্বর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিষয়টি নজরে এলেও এইআরও (AERO) ‘Found OK’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, নথিটি গ্রহণযোগ্য নয়; এটি প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার পক্ষে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। রোল অবজার্ভারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
কমিশনের এক কর্তার কথায়, দু’নম্বরি ধরতে ধরতে এখন জেরবার অবস্থা আমাদের। শুধু এআই-তৈরি কার্ড নয়, প্রোজেনি ম্যাপিং নিয়েও একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে ভাঙড়ে।
মাসুমা খাতুন নামে এক ভোটার তাঁর বাবার নাম হিসেবে মোক্তার আলি মোল্লার উল্লেখ করেছেন। কমিশনের খতিয়ে দেখা তথ্য অনুযায়ী, মোক্তার আলির মোট আট সন্তানের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে। অভিযোগ, ওই আট সন্তানের বয়সের ব্যবধান কখনও মাত্র এক বছর। জন্মসালগুলি যথাক্রমে ১৯৭৬, ১৯৮৩, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯২ এবং ১৯৯৬। অর্থাৎ ১৯৭৬ সালে যার প্রথম সন্তান হয়েছে, তিনিই ১৯৯৬ সালে অষ্টম সন্তানের বাবা—এই তথ্য ঘিরেই কমিশনের সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ক্যানিং পূর্বেও। সেখ মুসিবার নামে এক ভোটার তাঁর বাবার নাম হিসেবে শেখ আবুলের উল্লেখ করেছেন। শেখ মুসিবার-সহ শেখ আবুলের মোট আট সন্তানের নাম তালিকায় রয়েছে। তাঁদের বয়সের ব্যবধানও কখনও এক বছর, কখনও আবার একই বছরে জন্মের তথ্য নথিভুক্ত—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
এই সমস্ত বিষয় নিয়েই এখন নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বিস্তারিত কাটাছেঁড়া চলছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রেই বিএলও-রা (BLO) মুচলেকা দিয়ে জানিয়েছেন, ভোটারদের জমা দেওয়া তথ্য সঠিক। কিছু ক্ষেত্রে এইআরও-রাও ‘Found OK’ লিখে অনুমোদন দিয়েছেন বল। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে কমিশন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করে। নজর এখন সেই দিকেই।