পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন (West Bengal SIR) নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন—ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল অফিসারদের সিদ্ধান্ত বা ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা চলবে না।

শেষ আপডেট: 10 March 2026 17:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন (West Bengal SIR) নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন—ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল অফিসারদের সিদ্ধান্ত বা ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা চলবে না।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, আদালত নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত সময় কাজ করে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন শুনছেন। তাঁদের কাজকে সন্দেহ করা বা প্রশ্ন তোলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশ্ন করার সাহসও দেখাবেন না! তাঁরা ইতিমধ্যেই ওভারটাইম কাজ করছেন পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলাগুলি শুনতে। তাঁদের কাছ থেকে আর কী ত্যাগ চান? এটা আমি বরদাস্ত করব না।”
রাজ্য ও নির্বাচন কমিশন—দুই পক্ষকেই সতর্কবার্তা
শুনানির সময়ে আদালত জানায়, মামলায় দুই পক্ষের আচরণ নিয়েই তাদের উদ্বেগ রয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, দুই পক্ষের সদিচ্ছা নিয়েই আদালতের সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, এবং কে নতুন করে আবেদন করে জুডিশিয়াল অফিসারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তা স্পষ্ট করতে বলেন তিনি।
নতুন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ
এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এদিন অন্তর্বর্তী নির্দেশও দিয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে এবং জুডিশিয়াল অফিসাররা যাঁদের দাবি খারিজ করেছেন, তাঁদের জন্য একটি স্বাধীন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ট্রাইব্যুনালে থাকবেন প্রাক্তন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিরা। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে—প্রয়োজনে কলকাতা হাইকোর্ট বা প্রতিবেশী রাজ্যের প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুপারিশ করতে।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, জুডিশিয়াল অফিসারদের দেওয়া সিদ্ধান্ত কোনও প্রশাসনিক বা নির্বাহী সংস্থার কাছে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। আপিল করতে হলে নতুন ট্রাইব্যুনালের কাছেই যেতে হবে।
এই ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের সাম্মানিক নির্ধারণ করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। তবে সেই সমস্ত খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশনই।
সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ
শুনানিতে আরও জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বিবেচনাধীন ছিল, তাঁদের মধ্যে ১০ লক্ষের ব্যপারে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। যাঁদের আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে, তাঁদের নাম নিয়ে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন—উভয় পক্ষকেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ঘিরে ভোটার তালিকা সংশোধন এখন বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। তার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পর্যবেক্ষণ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।