জয়দেব অবিবাহিত এবং তাঁর বাবা-মাও তাঁর সঙ্গে থাকতেন। বুধবার গভীর রাতে প্রতিবেশীরা জয়দেবের ঘর থেকে গুলির আওয়াজ শুনতে পান। এরপর তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 September 2025 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়গ্রামে (Jhargram) ঘটল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। রাজ্য পুলিশের জঙ্গলমহল ব্যাটেলিয়নের (Junglemahal Battalion) সাব-ইন্সপেক্টর (SI) জয়দেব চট্টোপাধ্যায়ের (৩২) বিরুদ্ধে তাঁর বাবা-মাকে (Parents) গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে!
বুধবার রাতে ঝাড়গ্রামের পুলিশ লাইন (Jhargram Police Line) এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানেই ভাড়া বাড়িতে বাবা-মাকে খুনের পর জয়দেব নিজের গলাতেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যার (Suicide) চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই খবর পেয়ে বুধবার রাতে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই পুলিশকর্মীর বাবার নাম দেবব্রত চট্টোপাধ্যায় (৬২) এবং মায়ের নাম শম্পা চট্টোপাধ্যায় (৫০)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আসানসোলের বাসিন্দা জয়দেব কর্মসূত্রে ঝাড়গ্রাম পুলিশ লাইনের কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
জয়দেব অবিবাহিত এবং তাঁর বাবা-মাও তাঁর সঙ্গে থাকতেন। বুধবার গভীর রাতে প্রতিবেশীরা জয়দেবের ঘর থেকে গুলির আওয়াজ শুনতে পান। এরপর তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শম্পা, দেবব্রত এবং জয়দেবের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে তাঁদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জয়দেবের বাবা-মাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জয়দেব তাঁর বাবা-মাকে খুন করে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের দেহ ময়নাতদন্ত (Postmortem)-এর জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে তেমনই কৌতূহল বাড়িয়েছে। কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন জয়দেব?
জানা গেছে, গত ২, ৩ এবং ৪ সেপ্টেম্বর ছুটি নিয়েছিলেন জয়দেব। এই তিন দিনের ছুটিতে কী এমন ঘটল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। জয়দেবের এক সহকর্মী জানান, ‘স্যার তাঁর বাবা-মাকে খুব ভালোবাসতেন। এ ঘটনায় আমরা সবাই স্তম্ভিত।’ পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায় যে, জয়দেবের বাবা একটি জটিল রোগে ভুগছিলেন, যা নিয়ে জয়দেব মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, এই কারণেই হয়তো এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।