
শেষ আপডেট: 21 October 2022 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮৮৫ সালের ৬ নভেম্বর, দীপান্বিতা কালীপুজোর দিন। গলার আলসার সারাতে দক্ষিণেশ্বর থেকে শ্রীরামকৃষ্ণকে মাস কয়েক আগেই সরিয়ে আনা হয়েছে ৫৫ শ্যামপুকুর স্ট্রিটের এই ভাড়া বাড়িতে। তখন এই বাড়ির মালিক ছিলেন গোকুল ভট্টাচার্য। অসুস্থ শরীর, তাও দক্ষিণেশ্বরের জন্য মন কাঁদছে অহরহ। ঠাকুর জেদ ধরলেন অমাবস্যার রাতে কালীপুজো করবেন। তাঁর ইচ্ছে অনুসারে জোগাড় করা হল। পুজোর দিন সন্ধে সাতটা বেজে গেছে, এদিকে কেমন মূর্তি কেনা হবে, কীভাবেই বা পুজো হবে মায়ের, সে ব্যাপারে ঠাকুর একেবারে নীরব। সন্ধের পর থেকে নিজের বিছানাতেই স্থিরভাবে বসে আছেন তিনি। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। শরৎ, শশী, রাম দত্ত, গিরিশ ঘোষ, চুনিলাল, মাস্টার মহেন্দ্র গুপ্ত, রাখাল, নিরঞ্জন, ছোট নরেন, বিহারী— উপস্থিত ভক্তেরাও দোটানায়। সমস্ত উপাচার জোগাড়ের পরও তিনি কালীপূজা করছেন না দেখে গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ শিষ্যরা স্থির করেন ঠাকুরকেই কালীজ্ঞানে পুজো করবেন তাঁরা। ধ্যানস্থ ঠাকুরকে সামনে রেখেই শুরু হয় পুজো। শোনা যায়, মন্ত্রপাঠ করে অঞ্জলি দেওয়ার মুহূর্তে ভাবসমাধি থেকে জেগে উঠেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। সাক্ষাৎ ভবতারিণীর মতোই তখন তাঁর দু হাতে বর ও অভয় মুদ্রা। ঠাকুরের সে রূপ দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছিলেন উপবিষ্ট ভক্তমণ্ডলী। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সেই অলৌকিক রূপ আজও ঠাকুরের 'বরাভয় লীলা' নামে পরিচিত। (Shyampukur Bati)

উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বাটির পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুরের স্মৃতি। ১৮৮৫ সালের অগস্ট মাস নাগাদ গলার ঘা ধরা পড়ে ঠাকুরের। ডাক্তারি ভাষায় যার নাম ‘ক্লার্জিম্যানস থ্রোট’। ঠাকুরের চিকিৎসার দায়িত্ব পড়ে ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের হাতে। তাঁরই পরামর্শে শিষ্যরা রামকৃষ্ণকে দক্ষিণেশ্বর থেকে কলকাতার বাগবাজারে বলরাম বসুর বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে শ্যামপুকুরের এই বাড়িতে আসেন ২ অক্টোবর। ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ৭০ দিন ধরে এই বাড়িতেই অসুস্থ পরমহংসের চিকিৎসা চলে।
ঠাকুরের প্রয়াণের পরে ঐতিহাসিক এই বাড়ির রাশ আসে রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে। উত্তর কলকাতার সেই বাড়ি, শ্যামপুকুর বাটিতে (Shyampukur Bati) আজও নিয়ম মেনে প্রতিবছর দীপান্বিতা অমাবস্যায় ধুমধাম করে কালীপুজো করেন ভক্তেরা। তবে দেবীমূর্তি নয়, প্রথা মেনে কালীপুজোর রাতে এ বাড়িতে আজও কালীজ্ঞানে পুজো করা হয় শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেবকেই।