
শেষ আপডেট: 17 May 2023 10:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুবন চট্টোপাধ্যায় (Bhuban Chatterjee) প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে নাম করেছেন। আবার গায়ক ও লেখক হিসেবেও নিজের জাত চিনিয়ে চলেছেন।
ক্রীড়া সাংবাদিকরা যা ভাবতে পারেননি। সেটাই করে দেখিয়েছেন হাওড়া শিবপুর নিবাসী এই প্রাক্তন। অতীতে যিনি ময়দানে জায়ান্ট কিলার গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই বিধ্বংসী কিপার এখন শান্ত, স্তিতধী। তিনি বেশ কয়েক বছর থেকেই কলম ধরেছেন।
নিজের আত্মকথা লেখার পাশে তিনি লিখলেন মহিলা ফুটবলের প্রথম অর্জুন শান্তি মল্লিকের (Shanti Mallick) জীবনের কথা।
ভুবন সবসময় নিজের সৃষ্টিতে বেছে নিয়েছেন পিছিয়ে পড়া অবহেলিতদের কথা। শান্তিদি নিজে একজন কিংবদন্তি, তবুও মাটিতে পা রেখে সাধারণ ভাবে থাকেন বলে কল্কে পান না।
ভুবনের মুনশিয়ানা এই জায়গায়। তিনি বহুবার শান্তির বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর অতীত জানার চেষ্টা করেছেন।
শান্তিদি ময়দানে শুরু করেছেন ১৯৭৫ সালে। বাবার হাত ধরে কালীঘাট মাঠে এসেছিলেন। সেইসময় তাঁর বয়স ১২। বাবা তুলে দিয়েছিলেন কোচ সুশীল ভট্টাচার্যর হাতে। তিনিই তারপর তৈরি করেছেন এই প্রখ্যাত ফুটবলারকে।
শান্তি মল্লিক নিয়ে আসল কথা লিখেছেন নামী ইতিহাসবিদ ও ফুটবলার অনামিকা সেন। তিনি বইতে লিখেছেন, শান্তি মল্লিক ফুটবলার হিসেবে তো বটেই, এমনকী তিনি মানুষ হিসেবে আরও বড়। কেউ কোনও অসুবিধেতে পড়লে তিনি পাশে দাঁড়িয়ে যাবেন।
নিজের ফুটবলার জীবনের কথাও তুলে ধরেন অনামিকা। তিনি লিখেছেন একটা সময় খেলতে গিয়ে চোট পেয়ে হোটেলের ঘরে যন্ত্রণায় কষ্ট পেয়েছেন। সেইসময় মায়ের মতো পাশে থেকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন।
এটাই শান্তি মল্লিক। তিনি বাংলার ফুটবলের অন্যতম নক্ষত্র। ভারতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছেন। জাতীয় ফুটবল আসরে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। তিনি হয়ে উঠেছেন মহীরুহ।
ভুবনের কৃতিত্ব এই জায়গায়। তিনি শান্তি মল্লিকের মতো লাজুক, প্রচারের আড়ালে থাকা গুণী মানুষকে দিয়ে বলিয়ে বীরাঙ্গনা বইটি লিখতে পেরেছেন। এই বই ভারতীয় ফুটবলের এক চলমান দলিল হিসেবে থেকে যাবে। বইটি পড়তে শুরু করলে শেষ না করে পারা যাবে না।
ক্রিকেটে মোলাকাত দূর অস্ত, সাফ ফুটবলে ভারত-পাক দ্বৈরথ জুন মাসেই