
শেষ আপডেট: 9 April 2024 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: লস্কর-ই-তৈবার হুমকি চিঠি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানালেন শান্তনু ঠাকুর। কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও। কারা এই চিঠি পাঠাল, তা খতিয়ে দেখতে সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে শান্তনু ঠাকুর বলেন, "একটা গণতান্ত্রিক দেশে, গণতান্ত্রিক রাজ্যে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা কোথা থেকে এল তা আমি জানতে চাই। আমি এটা নিয়ে আতঙ্কিত নই, তবে বিষয়টা পরিষ্কার হওয়া দরকার।"
বিষয়টা নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি, জেলার এসপি ও স্থানীয় থানার ওসিকেও চিঠি দিয়েছেন বলে জানান তিনি। শান্তনু ঠাকুর বলেন, "আমার পরিবারের সবাইকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর পুরোটাই পুলিশকে জানিয়েছি।"
সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর দাবি করেন লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম করে লেখা একটি হুমকি চিঠি পেয়েছেন তিনি । এনআরসি করলে তাঁর বাড়ি ও সংলগ্ন মন্দির উড়িয়ে দেওয়া হবে, এমনই হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ আছে। যে চিঠি এসেছে তাতে দেগঙ্গার ঠিকানা লেখা। দেগঙ্গারই বাসিন্দা এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে। তাতে লেখা, এনআরসির ফলে যদি সংখ্যালঘুদের ওপর কোনও অত্যাচার হয় তাহলে গোটা দেশ জ্বলবে। তার সঙ্গে শান্তনু ঠাকুরের বাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হবে! এই ঘটনায় শান্তনু সরাসরি রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শান্তনু বলেন, ''এ রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের দুরবস্থা যে এমন ঘটনা ঘটল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পুলিশমন্ত্রী। অথচ তাঁর রাজ্যেই একজন প্রাক্তন সাংসদকে জঙ্গিরা হুমকি চিঠি পাঠাচ্ছে।'' রাজ্য সরকার যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, সেই আর্জিও জানান তিনি। এই হুমকি চিঠির কথা জানাজানি হতেই পাল্টা শান্তনুকেই নিশানা করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তাঁর দাবি, "পুরোটাই নাটক! শান্তনু ঠাকুর নিজে ভোটের জন্য এই নাটক করছে।"
মমতাবালা এবং শান্তনু ঠাকুরের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকে (এনআরসি) ঘিরে লোকসভা নির্বাচনের আগে তা অন্য মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি আবার শান্তনুর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন মমতাবালা। সেই মামলা কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। পাল্টা মমতাবালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন শান্তনু। আসলে মহাসঙ্ঘের নিয়ন্ত্রণ মমতাবালা ঠাকুর নাকি শান্তনু ঠাকুর, কার হাতে থাকবে তা নিয়ে পরিবারের অন্দরে বিবাদ দীর্ঘদিনের। তহবিল তছরুপের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে আরও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বড়মার ঘর দখল নিয়ে রবিবার বিকেল থেকে নতুন করে তেতে ওঠে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি।