প্রকাশ্য সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য থামিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), 'ভবিষ্যতে এমন কথা আর যেন না বলা হয়'।

শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 25 December 2025 20:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের পুরনো কর্মীদের (BJP West Bengal) ফের সক্রিয় করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ কর্মসূচি। কিন্তু সেই মঞ্চেই উঠে এল বিজেপির অন্দরের সূক্ষ্ম টানাপড়েন। প্রকাশ্য সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য থামিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), 'ভবিষ্যতে এমন কথা আর যেন না বলা হয়'।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বিজেপির (BJP) অন্দরে বিভিন্ন ‘গোত্র’-র কথা তুলেছিলেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, কেউ কেউ অন্য দলে কিছু না পেয়ে বিজেপিতে এসেছেন, আবার কেউ স্বেচ্ছায় সব ছেড়ে এই দলে যোগ দিয়েছেন। নিজেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে রেখে শুভেন্দু বলেন, একাধিক মন্ত্রিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে তিনি বিজেপিতে এসেছিলেন এবং সে ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আমন্ত্রণই ছিল তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ।
এই বক্তব্যের পরেই মঞ্চে উঠে শমীক ভট্টাচার্য কোনও ভূমিকা না বেঁধেই সরাসরি শুভেন্দুর উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতের কোনও সভায় যেন এ ধরনের কথা না বলা হয়। তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল শান্ত, কিন্তু বার্তা ছিল স্পষ্ট। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আর ‘আগে’ ও ‘পরে’র বিভাজন টানা অনুচিত। দলের সবাই সমান।
শমীকের এই হস্তক্ষেপে সভাস্থলে করতালি পড়ে। পরে তিনি আর বিষয়টি নিয়ে কথা না বললেও দলের অন্দরে ব্যাখ্যা শুরু হয়। শমীক-ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, রাজ্য সভাপতি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন— শুভেন্দু এখন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাঁকে বারবার নিজের ত্যাগ বা অতীত পরিচয় আলাদা করে তুলে ধরতে হবে না।
তবে সকলেই এই ব্যাখ্যায় একমত নন। দলের একাংশের মতে, শুভেন্দু আগেও একাধিক বার নিজেকে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের থেকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবারের বক্তব্যেও সেই প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। আর ঠিক সেখানেই অঙ্কুরে ‘গোত্র’-বিভাজনের সম্ভাবনা দেখেই হস্তক্ষেপ করেন শমীক।
বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় ঐক্যে কোনও ফাটল দেখতে চান না রাজ্য সভাপতি। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। তাই ‘অনুরোধ’-এর ভাষায় হলেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের বক্তব্য তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
একই সঙ্গে শমীক পুরনো ও নতুন— দুই পক্ষের প্রতিই সমান বার্তা দিয়েছেন। নিজের ভাষণের শেষ দিকে তিনি বলেন, নতুনদের বাদ দিয়ে দলের বিস্তার সম্ভব নয়। সমাজ থেকেই মানুষ আসবে, কোনও অলৌকিক জায়গা থেকে নয়। বিজেপিতে আদি-নব্য ভেদ নেই, সবাই একটাই পরিচয় বহন করে— বিজেপি।
অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মূলত আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সেই সব নেতাদের, যাঁরা অতীতে রাজ্য বা জেলা স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সক্রিয় নন। উদ্দেশ্য ছিল— তাঁদের ফের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত করা এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের শক্তি বাড়ানো।
জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই সভায় শমীক ও শুভেন্দু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক। শেষ পর্যন্ত, কর্মসূচির মূল বার্তা একটাই— বিভাজন নয়, ঐক্যই বিজেপির পথ।