দ্য ওয়াল ব্যুরো : টিকাকরণ নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁদের উদ্দেশে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। এদিন বেশ কয়েকটি টুইট করে তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা এখন আতঙ্ক ছড়াতে বেশি শক্তিক্ষয় করছেন। এর বদলে তাঁরা টিকাকরণের জন্য উদ্যোগ নিলে ভাল করতেন।” গত ২১ জুন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস থেকে নতুন ভ্যাকসিন পলিসি চালু হয়েছে দেশে। কেন্দ্রীয় সরকার টিকাকরণের পুরো উদ্যোগ নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। রাজ্যগুলিকে এখন কোভিড ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহেই দেশ জুড়ে তিন কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। টিকাকরণের ক্ষেত্রে এই ঘটনা এক মাইলস্টোন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “টিকাকরণ নিয়ে এখনও যদি কোনও সমস্যা থাকে, তাহলে তার জন্য দায়ী রাজ্য।” হর্ষবর্ধন কোনও নেতার নাম না করে বলেন, “আমি দেখতে পাচ্ছি, টিকাকরণ নিয়ে কয়েকজন নেতা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন। মানুষ সহজেই এই নেতাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সরকার ৭৫ শতাংশ ভ্যাকসিন দিচ্ছে বিনামূল্যে। এর ফলে জুন মাসে ১১ কোটি ৫০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।”
https://twitter.com/drharshvardhan/status/1410506329718878210
একটি টুইটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “জুলাই মাসে রাজ্যগুলিকে ১২ কোটি ডোজ দেওয়া হবে। দু’সপ্তাহ আগেই তাদের একথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে আলাদাভাবে।” এর আগে ২৬ জুন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলে, জুলাই মাসে বেসরকারি হাসপাতাল ও রাজ্যগুলিকে মোট ১২ কোটি ডোজ দেওয়া হবে।
হর্ষবর্ধন বলেন, “সমালোচকরা যদি প্রকৃত তথ্য জেনেও এই ধরনের বিবৃতি দেন, তাহলে বলতে হবে ব্যাপারটা দুর্ভাগ্যজনক। আমি আবার বিভিন্ন রাজ্যের নেতাদের বলতে চাই, আতঙ্ক ছড়াবেন না। টিকাকরণের জন্য আরও শক্তি ব্যয় করুন।”
বৃহস্পতিবার জানা যায়, কোভিড ভ্যাকসিনের জন্য গ্রিন পাস নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের চলতি বিরোধের মধ্যেই আটটি ইউরোপীয় দেশ তাদের অনুমোদিত ভ্যাকসিনের তালিকায় কোভিশিল্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। জার্মানি, স্লোভেনিয়া, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, সুইজারল্যান্ড-এই আট দেশে ছাড়পত্র পেয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিড ১৯ রোধী ভ্যাকসিন। এর অর্থ, কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন নেওয়া লোকজনকে এই দেশগুলিতে ভ্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হবে না। তাঁরা অব্যাহতি পাবেন।
বুধবার ভারত জানিয়ে দিয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন, এই দুই ভারতীয় ভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি না দিলে তাদের ডিজিটাল কোভিড সার্টিফিকেটও মানবে না। এটা পারস্পরিক দেওয়া নেওয়ার ভিত্তিতে হবে। গতকাল বিদেশমন্ত্রকের সূত্রে বলা হয়েছিল, কোয়ারান্টিন থেকে ছাড়ের প্রশ্নে ভারত পারস্পরিক দেওয়া নেওয়া নীতি প্রয়োগ করবে। মানে ইইউ দেশগুলি কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন নেওয়া লোকজনকে গ্রহণ না করলে ভারতেও ওইসব দেশ থেকে আসা লোকজনকে বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি, ফ্রান্সের সঙ্গেও কথা বলেছে ভারত। যারা কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিনের ডোজ নিয়েছেন. তাঁদের একইরকমের ছাড় দেওয়ার বিষয়টি পৃথক ভাবে বিবেচনা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলিকে বলেছিল ভারত।