
সন্দেশখালি আগারহাটি শ্মশানের জমি ও খালের একাংশ বেআইনিভাবে দখল করার অভিযোগ
শেষ আপডেট: 1 May 2024 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিতে শ্মশানও জবরদখল! এবার সন্দেশখালির শ্মশান ও খালের জায়গা দখল করে পাঁচিল দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাহজাহান এবং তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে।
হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই পোর্টালে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা দিয়েছেন সন্দেশখালির গ্রামবাসীরা। সেখানেই এবার শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে সন্দেশখালি আগারহাটি শ্মশানের জমি ও খালের একাংশ বেআইনিভাবে দখল করার অভিযোগ উঠেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের সরবেড়িয়া আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্মশানের পাশে রয়েছে আগারহাটি খাল। দীর্ঘদিন ধরে ওই খালের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন গ্রামবাসীরা। আর মাছ বেচাকেনার অর্থ বাঁচিয়ে শ্মশানের উন্নয়নের কাজ হত। ২০২২ সালে শাহজাহান এবং তাঁর অনুগামীরা ওই খাল ও শ্মশানের একাংশ দখল করে মাটি ভরাট করে দেয় এবং পাঁচিল তুলে দেয় বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা সিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আর পাঁচটা গ্রামের মতো সন্দেশখালিতেও ছিল শ্মশান। আর সেই শ্মশানের পাশে ছিল খাল। সিবিআইকে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, প্রথমে খাল বোজানো হয়। পরে শ্মশানেরও দখল নেয় শাহজাহান বাহিনী। দীর্ঘদিনের ওই খাল এবং প্রাচীন শ্মশান যাতে ফের পুরনো অবস্থায় ফিরে আসে সেই ব্যবস্থা করার জন্য সিবিআইয়ের কাছে আর্জি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
গত শনিবার ঘটনাস্থলে সিবিআই কর্তারা খাল ও শ্মশান দেখতে যান। গ্রামবাসীরা দূরের একটি কারখানা দেখিয়ে বলেন, "ওটাই আগে শ্মশান ছিল। আর আপনারা যে এলাকায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন, এখানেই ছিল খাল!" ইতিমধ্যে এই বিষয়ে গ্রামবাসীদের বয়ান রেকর্ড করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সন্দেশখালি কাণ্ডের তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই। তারপর থেকেই জোরকদমে চলছে তদন্ত। সিবিআইয়ের পোর্টালে ইতিমধ্যে শাহজাহান ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়েছে। শাহজাহান গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আগেই জমি, বাড়ি, ভেড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। এবার খাল থেকে শ্মশান আত্মসাৎ করার অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে শাহজাহানের কীর্তিকলাপ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।