
শেষ আপডেট: 18 April 2023 06:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কের অবসান ঘটাতে অবশেষে সেই তরুণীর (young woman) কাছে ক্ষমা চাইল শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি বা এসজিপিসি (SGPC)। ভারতে গুরুদ্বারগুলির শীর্ষ নিয়ামক সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক গুরচরণ সিং গ্রেওয়াল এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা এই তরুণীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। তাঁর প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে তা সমর্থন যোগ্য নয়। এসজিপিসি জানাতে চায় গুরুদ্বার জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত।
এসজিপিসি-র সভাপতি হরজিন্দর সিং ধামির বক্তব্য, ‘ভক্ত ও সেবাদারের মধ্যে কথোপকথনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা অনুচিত। ওই কথোপকথন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শিখদের বিরুদ্ধে প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ করছি।’
ঘটনার সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে (Golden Temple) ঢোকার মুখে এক তরুণীকে দ্বাররক্ষী সেবাদার আটকে দেন। রক্ষী সর্বজিৎ সিং তরুণীকে বলেন, ‘এটা পাঞ্জাব, ভারত নয়।’

তরুণীর সঙ্গে রক্ষীর এই কথোপকথনের এক টুকরো ভিডিও মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অতীতে স্বর্ণ মন্দিরকে শিখ উগ্রপন্থীদের ঘাঁটি হয়ে ওঠার বিষয়টিও খুঁচিয়ে তোলেন কেউ কেউ। তাতে নয়া মাত্রা দেয় খলিস্তানপন্থী অমৃতপাল সিংহের অন্তর্ধান রহস্য। স্বর্ণ মন্দিরে ভারতীয় কেন প্রবেশ করতে পারবেন না, এই ন্যায্য প্রশ্ন তুলেও সরব হন বহু মানুষ।
তরুণীকে ওই কথা কেন বলেছিলেন স্বর্ণ মন্দিরের দ্বাররক্ষী? তরুণীর গালে ভারতের জাতীয় পতাকা আঁকা ছিল। মনে করা হচ্ছে খলিস্তানি ভাবধারা অর্থাৎ পৃথক পাঞ্জাব রাষ্ট্রের দাবিতে অনুপ্রাণিত হওয়ায় রক্ষী সর্বজিৎ আপত্তিজনক মন্তব্য করেছিলেন। যদিও বিতর্কের মুখে তিনি বলেছেন, স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনও পোশাক বিধি নেই বটে, তবে শালীনতার সঙ্গে আপোস চলে না। তরুণীর শরীরের অনেকাংশই উম্মুক্ত ছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল শরীর ঢেকে প্রবেশ করতে।
যদিও ‘এটা পাঞ্জাব, ভারত নয়,’ এমন মন্তব্যের কোনও ব্যাখ্যা সর্বজিৎ দেননি। ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাননি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, সর্বজিতের ওই বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে গিয়েছে এসজিপিসিও। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গুরচরণ সিং গ্রেওয়ালের বক্তব্য, তরুণীর গালে জাতীয় পতাকাই আঁকা ছিল ধরে নেওয়া হচ্ছে কেন? কংগ্রেসের বা অন্য কোনও দলের পতাকাও তো হতে পারে!