
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
শেষ আপডেট: 2 May 2024 22:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন রাজভবনেরই এক মহিলা কর্মী। যা নিয়ে ভোটের বাজারে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা। মহিলার অভিযোগ জানানোর প্রায় ২ ঘণ্টা পর এবার প্রতিক্রিয়া জানানো হল রাজভবন থেকে।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের দাবি, ভোটের বাজারে ফায়দা তোলার জন্য কেউ বা কারা তাঁর বদনাম করার চেষ্টা করছেন।
To the Raj Bhavan staff who expressed solidarity with Hon’ble Governor Dr. C. V. Ananda Bose against whom some derogatory narratives were circulated by two disgruntled employees as agents of political parties, Hon’ble Governor said:
— Raj Bhavan Kolkata (@BengalGovernor) May 2, 2024
বৃহস্পতিবার রাতে এক্স হ্যান্ডল পোস্টে রাজ্যপাল বোস লিখেছেন, ‘‘সত্যের জয় হবেই। কৌশলে আমার মাথা নত করার চেষ্টা হচ্ছে। কেউ মিথ্যে অভিযোগ এনে নির্বাচনে সুবিধা নিতে চাইছেন, ভগবান তাঁর মঙ্গল করুন।"
টুইটে রাজ্যপাল আরও লিখেছেন, "কিন্তু এভাবে বাংলায় দুর্নীতি এবং হিংসার বিরুদ্ধে আমার লড়াই থামাতে পারবেন না।’’
রাজভবন সূত্রের খবর, সন্দেশখালির নির্যাতন নিয়ে সরব হওয়ার পর রাজভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এসেছিল। ওই সূত্রের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যপাল সক্রিয় হয়েছিলেন বলেই ভোটের মুখে যখন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসেছেন তখন এমন গুরুতর মিথ্যে অভিযোগ আনা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এদিন রাতে রাজ্যপাল যখন এক্স হ্যান্ডেলে এই পোস্ট করেন ঠিক তখনই রাজভবনে এসে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আগামীকাল রাজ্যে তিনটি সভা করবেন মোদী। সেকারণে বৃহস্পতিবার রাতে রাজভবনে থাকবেন তিনি।
মোদীর সফর এবং ভোটের আবহে এদিন সন্ধেয় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজ্যের ইতিহাসে যা বিরতলতম ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর আগে বাংলার কোনও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনও গুরুতর অভিযোগ ওঠেনি।
রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, "সত্য অভিযোগ না কি চক্রান্ত, সেটা দেখতে হবে। যদি সত্য হয়, তবে নিশ্চয়ই কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ করবে।’’
একই সঙ্গে শুভেন্দু মনে করিয়েছেন, "দুর্নীতির অভিযোগে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে, সন্দেশখালি ইস্যু- সব মিলিয়ে তৃণমূল কোণঠাসা। ফলে ভোটের মুখে এমন অভিযোগ রাজনৈতিক চক্রান্ত কি না, দেখতে হবে।"