কোস্ট গার্ডের তরফে আটক ১৩ জনকে ইতিমধ্যেই ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার হাতে তুলে দিয়েছে। শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ পর্বও। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তাঁরা সত্যিই মৎস্যজীবী নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে বেআইনিভাবে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 08:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় জলসীমায় (India Water Border) ঢুকে পড়ায় ফের একবার একাধিক বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে (Bangladeshi Fishermen) গ্রেফতার করল পুলিশ। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করায় বঙ্গোপসাগর থেকে এক বাংলাদেশি ট্রলার আটক করে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। 'মায়ের দোয়া’ নামে ওই ট্রলারে ছিলেন ১৩ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী।
পাঁচদিনের ব্যবধানে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক দু'টি ট্রলার। সূত্রের খবর, এই ট্রলারটিকে পরে সুন্দরবনের ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলে নিয়ে আসা হয়।
কোস্ট গার্ডের তরফে আটক ১৩ জনকে ইতিমধ্যেই ফ্রেজারগঞ্জ (Frazerganj) উপকূল থানার হাতে তুলে দিয়েছে। শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ পর্বও। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তাঁরা সত্যিই মৎস্যজীবী নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে বেআইনিভাবে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন।
PRO Defence Kolkata-র তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের দায়েই ট্রলার আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার পূর্বচণ্ডীপুর গ্রামে। বাকিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি ফিরোজপুর ও জিয়ানগরে বলে জানা গেছে।
আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
এর আগে গত জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশে (Bangladesh) আটক হন ৩৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী (Bengal Fisherman)। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তাঁদের ব্যবহৃত দু’টি ট্রলার — ‘এফবি ঝড়’ ও ‘এফবি মঙ্গলচণ্ডী ৩৮’। মৎস্যজীবীরা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের মোংলা বন্দরের কাছে। বাংলাদেশের নৌবাহিনীর দাবি, ওই মৎস্যজীবীরা গভীর রাতে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমায় ঢুকে পড়ে মাছ ধরছিলেন। বাংলাদেশি টহলদারি জাহাজের নজরে পড়তেই তৎক্ষণাৎ তাঁদের ধাওয়া করে আটক করা হয়।
বিগত কয়েক মাসে এই ধরনের একাধিক ঘটনাই ঘটেছে উপকূল অঞ্চলে। কখনও ভারতীয়রা গ্রেফতার হয়েছে, কখনও উল্টোটা। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারতের সাম্প্রতিক সম্পর্কের নিরিখেই এত বেশি কড়াকড়ি চলছে।