দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সঙ্কটের সময় পেটেন্টের মোহ নেই, সমস্ত ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলি মিলেমিশে কাজ করলেই ভাইরাসকে রোখার প্রতিষেধক বেরিয়ে যাবে, বললেন সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সিইও আদর পুনাওয়াল্লা। বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের ফার্মা কোম্পানিগুলিকেই করোনার ভ্যাকসিন বা ড্রাগ তৈরির উদ্যোগ নিতে বলেছে কেন্দ্র। বর্তমানে দেশের ছ’টি সংস্থায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে জোরকদমে। তার মধ্যে একটি হল সেরাম ইনস্টিটিউট। সিইও জানিয়েছেন, গবেষণা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতেই ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর অনুমোদনে দেশে জাইদাস ক্যাডিলাতে প্রথম অ্যান্টি-ভাইরাল ভ্যাকসিন ও ড্রাগ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। তারপরেই রয়েছে দেশের অন্যতম বড় ভ্যাকসিন ও ড্রাগ নির্মাতা সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট। জাইদাস সিপলা কাজ করছে দু’রকমের ভ্যাকসিন নিয়ে। সেরাম ইনস্টিটিউটে একরকম ভ্যাকসিন নিয়েই কাজ চলছে। সিইও আদর বলেছেন, “কোন সংস্থা আগে ভ্যাকসিন তৈরি করবে সেটা বড় ব্যাপার নয়। মারণ ভাইরাসকে ঠেকানোই প্রাথমিক লক্ষ্য। আমরাও যদি এর উপায় আগে বার করে ফেলি তাহলে সবাইকে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।”
পেটেন্টের নিরাপত্তার দরকার নেই, বলেছেন আদর পুনাওয়াল্লা। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয় সব সংস্থারই এই নীতি নিয়ে এগিয়ে চলা উচিত। যে আগে উপায় পাবে বাকিদেরও জানাবে। মিলিতভাবে কাজ হলেই পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন বাজারে আনা সম্ভব হবে। শেয়ারহোল্ডারদের বিপুল চাপ থাকবে ঠিকই, তবে একজোট হয়ে কাজ করলেই এই সঙ্কট থেকে তাড়াতাড়ি রেহাই মিলবে।”
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর অনুমোদনে জাইদাস ক্যাডিলা, সেরাম ইনস্টিটিউট, বায়োলজিক্যাল ই, ভারত বায়োটেক, ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যালস এবং মিনভ্যাক্স—এই ছয় সংস্থায় ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। জানা গেছে, ৭০ রকমের ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট গবেষণার স্তরে আছে। যার মধ্যে তিনটি মানুষের উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।
মাইল্যাব সল্যুউশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোভিড-১৯ টেস্ট কিট তৈরি করছিল সাইরাস পুনাওয়াল্লার গ্রুপ সেরাম ইনস্টিটিউট। সোয়াইন ফ্লুয়ের প্রতিরোধী ইনট্রা-ন্যাজাল সোয়ান ফ্লু ভ্যাকসিন এই গ্রুপেরই তৈরিযার মধ্যে তিনটি মানুষের উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ২০১৬ সালে ম্যাসাচুসেটস মেডিক্যাল স্কুলের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রেবিস হিউম্যান মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি (RMAb) বানিয়েছিল সেরাম।