শেষ আপডেট: 12 November 2020 08:05
এই বছর মার্চ মাসের পর ২ নভেম্বর থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু সেকেন্ড ওয়েভের রক্তচক্ষুতে ফের বাধ্য হয়ে বন্ধ করতে হল দেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত রবিবার থেকেই দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক স্বরে আলোচনা চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। রবিবারই হাঙ্গেরির বিদেশমন্ত্রী পিটার সিজার্তোর কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সেই সময় এক দিনের সফরে তিনি কম্বোডিয়ায় ছিলেন। আর তারপরেই দেশের জনগনের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন কম্বোডিয়া সরকার।
'ফনোম পেন'এর শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন মঙ্গলবার থেকেই তাঁদের স্কুল,কলেজ সমস্তকিছু বন্ধ। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ অনু্যায়ী আপাতত দু সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঠিক কতজন শিক্ষার্থী পিটারের সভায় উপস্থিত ছিলেন সে তথ্য এখনও জানা যায়নি, তাই প্রত্যেকের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই তিনি জানিয়েছেন।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন জানিয়েছেন সিজার্তোর একজন কম্বোডিয়ান বডিগার্ডও একইসঙ্গে কোভিড পজিটিভ হন। তিনি কম্বোডিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও বেরিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের করোনা টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও তিনি আপাতত কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চেয়েছেন। নিয়মানুসারে ১৪দিন নিজের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে কাটাবেন বলেই নিজেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যাঁরা পিটারের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই ১৪ দিনের মধ্যে ৪ বার টেস্ট করাবেন বলেও জানা গেছে।
'ফ্নোম পেন'এর অলিম্পিক স্টেডিয়ামের জিমসহ অন্যান্য বিভাগও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে পিটারের বডিগার্ড, যাঁর কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে, তিনি ওখানকার জিমের প্রশিক্ষকও। এই মুহূর্তে ওখানে গিয়ে কেউ যাতে সংক্রমিত না হন, তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই মুহূর্তে সকল দেশবাসীকে বাইরে বেরিয়ে কোনওরকম উৎসব উদযাপন বা পার্টি করতে, সিনেমা হলে যেতে নিষেধ করছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশে হু হু করে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এ অবস্থায় প্রত্যেককেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন কম্বোডিয়া সরকার।