
শেষ আপডেট: 30 October 2020 18:30
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের সাহায্যে এমন অ্যালগোরিদম তৈরি হয়েছে সেখানে কাশির শব্দ রেকর্ড হয়ে দ্রুত রেজাল্ট বেরিয়ে আসবে। এই কম্পিউটার অ্যালগোরিদম যোগ থাকবে অ্যাপের সঙ্গে। ধরা যাক, সংক্রমণের সন্দেহে রয়েছে এমন বহু মানুষের কাশির শব্দ রেকর্ড করা হল। এবার সেই শব্দের কম্পাঙ্ক মাপবে কম্পিউটার অ্যালগোরিদম। ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে ভোকাল কর্ডের আওয়াজ অন্যরকম হবে। আর পাঁচজন ধরতে না পারলেও সেটা ধরা পড়বে কম্পিউটার প্রযুক্তিতে। সংক্রমণ রয়েছে কিনা বা কী পরিমাণে রয়েছে তার রিপোর্ট দেখা যাবে অ্যাপে।
গবেশকরা বলছেন, দশ হাজারের বেশি মানুষের কাশির শব্দ এবং গলার স্বর রেকর্ড করে সংক্রমণ চিহ্নিত করা গেছে। এমন বহু মানুষকে শণাক্ত করা গেছে যাদের রোগের উপসর্গ নেই অথচ শরীরে ভাইরাল লোড বেশি। ৯৮.৫ শতাংশ সঠিক রিপোর্ট দিয়েছে এই প্রযুক্তি। শুধু ভাইরাস সংক্রমণই নয়, রোগীর মস্তিষ্কে ভাইরাস বাসা বেঁধেছে কিনা সেটাও ধরতে পারবে এই প্রযুক্তি। অ্যালঝাইমার্স বা অন্য কোনও স্নায়ুর রোগের শঙ্কা আছে কিনা তাও ধরা যাবে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।
এমআইটি-র অটো-আইডি ল্যাবরেটরিতে এই সংক্রান্ত গবেষণা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডক্টর ব্রায়ান সুবিরানা। তিনি বলেছেন, এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড অর্থাৎ শরীরে এর সক্রিয়তা কতদিন থাকবে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। এর ইনকিউবেশন পিরিয়ড হতে পারে ৭-১৪ দিন আবার কম করে পাঁচদিন। অর্থাৎ ভাইরাস শরীরে ঢোকার পরে এই সময়ের মধ্যে রোগীর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই সময়ের মধ্যে কোভিড টেস্ট করালে সঙ্গে সঙ্গেই সংক্রমণ ধরা পড়বে। আর যদি উপসর্গ বোঝা না যায় তাহলে দেরি হয়ে যাবে অনেক। কারণ, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সার্স-কভ-২ এর ইনকিউবেশন পিরিয়ড একমাস বা ৩৭ দিনেরও বেশি। আর এই সময়ের মধ্যে ভাইরাস নাক বা গলাতেও বসে নেই, বরং শ্বাসনালী দিয়ে নেমে গিয়ে ফুসফুস বা অন্য অঙ্গগুলিকে সংক্রমিত করা শুরু করেছে। সুতরাং নাক বা গলা থেকে নেওয়া নমুনার মধ্যে সবসময়েই যে ভাইরাল স্ট্রেন পাওয়া যাবে তেমনটা কিন্তু নয়। এমনও দেখা গেছে, আচমকা কোনও রোগী ফুসফুসের রোগ, বা হার্ট অ্যাটাক, কিডনির রোগ বা লিভারের অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁর স্ক্রিনিং করিয়ে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছে। তার মানে ভাইরাস ভেতরে ভেতরে শরীরের অঙ্গগুলিকে সংক্রমিত করা শুরু করে দিয়েছে অথচ বাইরে তার কোনও লক্ষণ ফুটে ওঠেনি। তাই সতর্কতা দরকার সবক্ষেত্রেই। যত বেশি রোগ চিহ্নিত করা যাবে তত বেশি সংক্রমণে লাগাম পরানো যাবে। সুস্থতার হারও বাড়বে।