দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স তাদের মাত্র ১৪। এখনও পেরোয়নি স্কুলের গণ্ডি। কিন্তু তাদের কীর্তি এখনও তাদের পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের দরবারে। যে সে কেউ নয়, খোদ নাসা থেকে ইমেল এসেছে তাদের কাছে, এসেছে প্রশংসা। কারণ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা একটি গ্রহাণুকে আবিষ্কার করেছে সুরাতে এই দুই ছাত্রীই। তাদেরই এই আবিষ্কারকে বিরল বলে স্বীকৃতি দিয়েছে নাসা।
এই দুই কৃতী ছাত্রীর নাম বৈদেহী ভেকারিয়া এবং রাধিকা লাখানি। মহাকাশে যে নতুন গ্রহাণুটিকে তারা খুঁজে পেয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে এইচএলভি২৫১৪। জানা গেছে, এটি এখন মঙ্গল গ্রহের কাছাকাছি আছে। ভবিষ্যতে কোনও এক সময়ে এটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে পারে।
কিন্তু সুরাতের দুই কন্যা কীভাবে আবিষ্কার করল এই গ্রহাণু?
কিছুদিন আগেই ‘অল ইন্ডিয়া অ্যাস্টোরয়েড সার্চ ক্যাম্পেনিং ২০২০’ নামের দু’মাস ব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল স্পেস ইন্ডিয়া। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্চ কোলাবরেশন ও আমেরিকার টেক্সাসের হার্ডিন বিশ্ববিদ্যালয়ও ছিল আয়োজক হিসেবে। তাতেই নাম লিখিয়েছিল দুই কিশোরী।
অনলাইনে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের শক্তিশালী প্যান স্টার টেলিস্কোপের সিসিডি ক্যামেরা ধরা পড়া গ্রহাণুটিকে আবিষ্কার করে তারা। এর পরেই স্পেস ইন্ডিয়া এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে তাদের ফেসবুক পেজে। সেখান থেকেই মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে খবর ছড়িয়ে পড়ে। প্রশংসার ঝড় বয়ে যায়।
তবে প্রশংসার অভ্যেস থাকলেও, নাসার ইমেল অপ্রত্যাশিত ছিল। তাদের এই আবিষ্কারকে নাসা স্বীকৃতি দেওয়ায় আনন্দে রীতিমতো লাফাচ্ছে মধ্যবিত্তর পরিবারের দুই কিশোরী। বৈদেহীর বাবা পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী, আর রাধিকার বাবার কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের দোকান আছে।
দুই কৃতী কন্যা জানিয়েছে, ওই শিবির চলাকালীন তারা মোট ২০টি অবজেক্টকে চিহ্নিত করেছিল। তার মধ্যে এটি গ্রহাণু স্বীকৃতি পেয়েছে। এর গতিপথ বুঝতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে বলেও জানিয়েছে তারা। তার পরেই চূড়ান্ত নামকরণ করা যাবে এই অ্যাস্টেরয়েড বা গ্রহাণুর।
গত চার বছরে এই প্রথম ভারত থেকে কেউ গ্রহাণু চিহ্নিত করল বলে জানা গেছে।