
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 April 2025 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ হাজার চাকরি বাতিল (SSC Supreme Court order) করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি আদৌ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ (School authority)।
এভাবে পুরো প্যানেল বাতিলের জেরে আদতে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা। একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষর মতে, যাদের চাকরি বাতিল হল, তাদের মধ্যে অনেকেই মাধ্য়মিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন। আগামী ২, ৩ দিনের মধ্যে তাদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে এসএসসি। সেক্ষেত্রে সময়ের মধ্যে খাতা দেখার কাজ সম্পূর্ণ করা যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে কর্তৃপক্ষ।
এক প্রধান শিক্ষকের কথায়, অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা কম। ফলে এমনিতেই সকলকে চাপে থাকতে হয়। এবার আরও শিক্ষকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ক্লাস করানোর চাপ তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে বছরভর পরীক্ষা, মূল্যায়ণ, ফলাফল বাংলার শিক্ষা পোর্টালে তোলা-সহ হাজারও কাজ করতে হয় শিক্ষকদের। এভাবে একলপ্তে ২৬ হাজারের চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ায় সাকুল্যে সব কিছু প্রভাবিত হতে পারে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একসঙ্গে চাকরি গেল ভগবানগোলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষিকার। ফলে চরম অনিশ্চয়তায় এই স্কুলের ভবিষ্যৎ। বৃহস্পতিবার সকালে এই খবর জানাজানি হতেই স্তব্ধ গোটা স্কুল।
বিদ্যালয়ের ৬২ জন শিক্ষিকার মধ্যে ২১ জন চাকরি হারানোয় প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বলেন, "আগামীকাল থেকেই স্কুলে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা কী করে হবে বুঝতে পারছি না। প্রায় চার হাজার ছাত্রী এই স্কুলে পড়াশোনা করে। আমি খুবই চিন্তায় পড়েছি।"
শুধু ভগবানগোলা নয়, রাজ্যের এরকম একাধিক স্কুলের ছবিটা এরকমই। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশের ফলে কোথাও ২ জন, কোথাও বা ৪ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। কোথাও কোথাও সংখ্যাটা আরও বেশি। এমন অবস্থায় কীভাবে স্কুলের পঠনপাঠন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা হবে, তা নিয়ে সংশয়ে রাজ্যের বহু স্কুল কর্তৃপক্ষ।