
শেষ আপডেট: 22 May 2023 09:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) ফের অস্বস্তিতে ফেললেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন সত্যপাল মালিক (Satyapal Malik)। পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা নিয়ে সত্যপাল এবার বলেছেন, ২০১৯-এর লোকসভা ভোট (2019 lok sabha election) হয়েছিল সেনার লাশের উপর। ঘটনার ঠিকঠাক তদন্ত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে পদত্যাগ করতে হত। জেলে যেতে হত অনেক পদস্থ অফিসারকে।
গত মাসেই একটি নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালিক পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। ওই ঘটনা হয়েছিল ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে। সেই বছরই এপ্রিল-মে মাসে ছিল লোকসভার ভোট। মালিক তখন ছিলেন জন্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল। পুলওয়ামায় আধা সেনার কনভয়ের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলায় ৪০ জওয়ান নিহত হন। মালিক অভিযোগ করেন, সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, ঘটনার জন্য পুরোপুরি প্রশাসন দায়ী। সেনাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ বলেই বিমান চাওয়া হয়েছিল সেনাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বিমান দেওয়া হয়নি।
জম্মু-কাশ্মীর, গোয়া এবং মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল মালিক বিজেপির প্রাক্তন সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি। তবে গোড়া থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমালোচক। বিমুদ্রাকরণ, তড়িঘড়ি জিএসটি চালু, তিন বিতর্কিত কৃষি বিল এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে রাজ্যপালের চেয়ারে বসেই সরব হয়েছিলেন তিনি। তবে পুলওয়ামা (pulwama attack) নিয়ে মুখ খোলেন মেঘালয়ের রাজ্যপালের পদ থেক অবসরের পর।

পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে তাঁর বিস্ফোরক বক্তব্যের কোনও জবাব কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। দল প্রতি আক্রমণের পথে না হেঁটে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কৌশল নেয়।
প্রায় মাস খানেকের মাথায় মালিক ফের মুখ খোলেন রাজ্যস্থানের আরওয়ালে গিয়ে। সেখানে তিনি দুর্নীতি এবং আদানি ইস্যুতেও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিঁধেছেন। তাঁর কথায়, সংসদে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছিলেন, আদানির কোম্পানিতে বেআইনি ২০ হাজার কোটি কার টাকা। প্রধানমন্ত্রী জবাব দেননি। আসলে এগুলি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীদের দুর্নীতির টাকা। তিনি বলেন, ‘আমি গোয়ার রাজ্যপাল ছিলাম। মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে আমাকেই রাজ্যপালের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।’
পুলওয়ামা কাণ্ড নিয়ে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের সময়ই সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতারা। বিশেষ করে আধা সেনার নিরাপত্তায় ঢিলেমির অভিযোগ ওঠে। তবে পাকিস্তান পরিস্থিতির সুযোগ নেবে মনে করে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি সরব হয়নি।
যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদী নির্বাচনী প্রচারে পুলওয়ামার ঘটনাকে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। তিনি জনসভায় বলেন, নতুন ও নবীন ভোটারেরা আশা করি ভোটটি পুলওয়ামার শহিদদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্য নিয়ে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ দায়ের হলেও নির্বাচন কমিশন তাঁকে ক্লিনচিট দেয়।
বিবিসির মোদী তথ্যচিত্র: আয়কর হানার পর এবার নোটিস পাঠাল দিল্লি হাইকোর্ট