মেসিকে আনতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। মেসির বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করে তবে রাজি করাতে পেরেছিলেন। তারপর মেসির সঙ্গে দেখা করে দিনক্ষণ স্থির করেন।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কলকাতায় মেসির আগমন আর প্রস্থান। সময়টা সাকুল্যে ১২ ঘণ্টা। তারমধ্যেই স্বপ্নের নায়ক থেকে একেবারে খলনায়ক হয়ে গেছেন এই ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta)। জনতার ক্ষোভ সামলাতে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। আর তারপর থেকেই জনরোষের আশঙ্কায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে রিষড়ার বাঙুর পার্কে তাঁর বাড়ির সামনে।
শ্রীরামপুর হলিহোম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন শতদ্রু। ছোট থেকেই পাড়ায়-স্কুলে ক্রিকেট খেলতেন। এক সময় প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করতেন। তারপর জামাইবাবুর সঙ্গে ইভেন্টের কাজ শুরু করেন। দিন গড়াতে থাকে। শতদ্রুওর কেরিয়ারও ঝকঝকে হয়ে উঠতে থাকে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলোয়ারদের বাংলায় নিয়ে এসে চমকে দেওয়া শুরু করলেন তিনি। যে সব খেলোয়ারকে একবার চোখের দেখার জন্য আসমুদ্রহিমাচল পারি দিতে পারেন ভক্তরা, সেই সব খেলোয়ারকে টার্গেট করে আনতে শুরু করলেন।
শুধু কলকাতায় নয়, আনলেন নিজের বাড়িতেও। বাড়িতেই বানিয়ে ফেলেন ফুটবল মাঠ। নিয়ে আসেন কাফু, মার্টিনেজ, রোনাল্ডিনহোকে। মেসিকে আনতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। মেসির বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করে তবে রাজি করাতে পেরেছিলেন। তারপর মেসির সঙ্গে দেখা করে দিনক্ষণ স্থির করেন।
আজ ১৩ ডিসেম্বর সেই মেসি শোয়ের জন্য বহু লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি করেন শতদ্রু। হাজার হাজার মেসিভক্ত সকাল হতেই ভিড় জমান যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কিন্তু মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। জনতার রোষে বিধ্বস্ত হয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ছড়িয়ে পড়ে চরম বিশৃঙ্খলা। এরপরেই শতদ্রুর বাড়িতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশ পিকেট বসানো হয়। রিষড়া থানাতেও বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করে চন্দননগর পুলিশ।
এদিন শতদ্রুর প্রতিবেশীরাও জানান, সকালবেলা অনেক অসুবিধা করেই যুবভারতীতে পৌঁছেছিলেন। অনেক টাকার টিকিট কেটেও চোখের দেখা দেখতে পাননি মেসিকে। নেতামন্ত্রীরাই ঘিরে রেখেছিল তাঁকে। মাত্র কয়েক মিনিট থেকেই মাঠ ছেড়ে চলে যান তিনি। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দর্শকরা। রিষড়ার বাঙুর পার্কের বাসিন্দারা বলছেন,"এর আগে যখন মার্টিনেজ এসেছিল, তখন কিন্তু সব ঠিকঠাক ছিল। এমনটা হবে ভাবতেও পারিনি আমরা।" তবে পাড়ার ছেলেকে রাতারাতি ভিলেন বানাতে কষ্টও হচ্ছে। তাই বাড়িতে চড়াও হওয়ার প্রশ্ন নেই। তবুও সাবধান তো থাকতেই হবে প্রশাসনকে। তাই দুপুরের পর থেকেই পুলিশের নজরদারির আওতায় শতদ্রু দত্তের বাড়ি।