প্রশ্ন উঠছে, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও কাঞ্চন এমন আচরণ করতে পারেন কি?
.jpeg.webp)
কাঞ্চন ও শ্রীময়ী।
শেষ আপডেট: 10 July 2025 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রপিক্যাল মেডিসিন হাসপাতালের চিকিৎসক নিগ্রহের অভিযোগ ঘিরে ফের শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। কাঠগড়ায় তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mallick)। স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে ‘ক্ষমতা প্রদর্শনের’ অভিযোগে উত্তাল চিকিৎসক মহল। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-ও কাঞ্চনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে।
বৃহস্পতিবারও ঘটনার রেশ ছিল স্পষ্ট। চিকিৎসক সংগঠনগুলির বক্তব্য, “চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানে জনপ্রতিনিধির এই আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সুরক্ষা জরুরি।”
এ ব্যাপারে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "যতদূর জানা গিয়েছে, কাঞ্চন এক আত্মীয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। সেই কারণেই হয়তো উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওঁর আরও ধৈর্য ধরা উচিত ছিল, মাথা ঠান্ডা রাখা উচিত ছিল।"
তবে তৃণমূল এখনও পর্যন্ত কাঞ্চনের বিরুদ্ধে কোনও দলীয় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি। সেই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। কাঞ্চনের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি।
বিধায়ক অভিনেতার শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) এর অন্যতম সদস্য চিকিৎসক শান্তনু সেনও। তিনি বলেন, "চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে আইএমএ।" একই সঙ্গে তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে শান্তনু মনে করেন, 'দল এঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ করবে'।
বিষয়টি নিয়ে জনমানসেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, জনপ্রতিনিধি মানেই কি সরকারি পরিষেবার মাথায় চেপে বসা? একজন চিকিৎসককে জনসমক্ষে অপমান করে কী বার্তা দিতে চাইছেন কাঞ্চন মল্লিক?
কী ঘটেছিল হাসপাতালে?
ঘটনা বুধবারের। কলকাতার ট্রপিক্যাল মেডিসিন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে কাঞ্চন তাঁর স্ত্রী শ্রীময়ী ও শাশুড়িকে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসক মেহবাবুর রহমানের অভিযোগ, কাঞ্চন তাঁর আত্মীয়াকে আগে দেখানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু চিকিৎসক জানিয়ে দেন, তিনি তখন একটি শিশুর চিকিৎসা করছেন, পরে দেখবেন।
এরপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চিকিৎসকের দাবি, কাঞ্চন বাজে ভাষায় কথা বলেন এবং তাঁর ‘পদমর্যাদা’র প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ খারিজ করে কাঞ্চন বলেন, "দিদার বয়স ৮৬। আসানসোল থেকে শুধু চেকআপের জন্য এসেছেন। আমি কোনও ভিআইপি সুবিধে চাইনি। যথাযথ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে দেখিয়েছি। শুধু অনুরোধ করেছিলাম প্রেসার মাপার জন্য। কিন্তু চিকিৎসক আমায় অপমান করেন। আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করেন ওঁর কোনও ডিগ্রি আছে কিনা! আমি শুধু প্রতিবাদ করেছি, দুর্ব্যবহার করিনি। আমি বিধায়ক বলেই কি অপমানিত হব?"
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চিকিৎসক মহলের বার্তা, “এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পেশাগত সম্মান রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা ‘থ্রেট কালচার’ বরদাস্ত করব না।”
সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর। পুলিশের কাছেও লিখিত অভিযোগ গিয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রশ্ন উঠছে, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও কাঞ্চন এমন আচরণ করতে পারেন কি? দল কোনও পদক্ষেপ করে কিনা, তা নিয়েও কৌতূহল সব মহলে।