
বিরূপাক্ষ বিশ্বাস।
শেষ আপডেট: 5 September 2024 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের জেরে এবার স্বাস্থ্য দফতরের কোপে সন্দীপ ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার 'প্রভাবশালী' এই চিকিৎসককে সাসপেন্ড করল স্বাস্থ্য দফতর।
আরজি কর কাণ্ডের পরে মেডিক্যাল দুর্নীতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। সন্দীপ ঘোষ-সহ একাধিক ডাক্তার এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই তালিকায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার অভীক দে'র পাশাপাশি বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের নামও জুড়েছে।
ইতিমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে (বর্তমানে সিবিআই হেফাজতে) গত ৩ সেপ্টেম্বর সাসপেন্ড করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। সাসপেন্ড করা হয়েছিল সন্দীপ ঘনিষ্ঠ বর্ধমান মেডিক্যালের চিকিৎসক অভীক দে কেও। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের।
প্রসঙ্গত, এর আগেই আরজি কর দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ডক্টর সন্দীপ ঘোষকে সাসপেন্ড করেছে আইএমএ। শুধু তাই নয়, সন্দীপ ঘনিষ্ঠ আরও পাঁচ চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার জন্য বৃহস্পতিবারই সুপারিশ করেছে আইএমএ বেঙ্গল। এরা হলেন, আইএমএ-র জলপাইগুড়ি শাখার সম্পাদক ড. সুশান্ত রায়, ডক্টর অভীক দে, ডক্টর তাপস চক্রবর্তী, ডক্টর দীপাঞ্জন হালদার এবং ডক্টর বিরূপাক্ষ বিশ্বাস।
ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডক্টর সুদীপ্ত রায়কে আইএমএ বেঙ্গলের তরফে চিঠি লিখে বলা হয়েছে, আরজি করে যে ভয়াবহ অপরাধ ঘটে গেছে, সেই সূত্রে কাউন্সিলের সদস্য এই চিকিৎসকদের বিতর্কিত অবস্থান বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এঁদের কাউকে কাউকে ঘটনার দিন আরজি করে দেখাও গেছে, কেউ কেউ আবার সিবিআই-এর স্ক্যানারে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত চিকিৎসকজদের বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যে আইএমএ-র কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই চিকিৎসক ডক্টর সুমন মুখোপাধ্যায় ও ডক্টর দীপাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়।
কে এই বিরূপাক্ষ বিশ্বাস?
সূত্রের খবর, বর্ধমান মেডিক্যালের প্যাথোলজি বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্স ডক্টর বিরূপাক্ষ চিকিৎসক মহলে যথেষ্ট প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও সর্বজন বিদিত। সম্প্রতি একটি অডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই ডাক্তার বিরূপাক্ষের নাম উঠে আসে। যদিও এই ভাইরাল অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
এরপরে স্বাস্থ্য দফতর থেকে তাঁকে বদলি করে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ডাক্তার বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে নিয়ে অসন্তাষ দেখা দিয়েছে কাকদ্বীপেও। কাজে যোগ দিতে এলে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েই পোস্টার সাঁটানো হয়েছে হাসপাতালে। "কাকদ্বীপবাসী দিচ্ছে ডাক, বিরূপাক্ষ নিপাত যাক", এমন পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা হাসপাতাল চত্বর। তারই মধ্যে এবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিরূপাক্ষকে সাসপেন্ড করার কথা জানানো হল। তবে এ ব্যাপারে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।