
শাহজাহান শেখ এবং মণ্ডল সভাপতির সেই ভাইরাল ভিডিও
শেষ আপডেট: 7 May 2024 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: সন্দেশখালির ভিডিওতে সত্য উদঘাটন হল বলে মন্তব্য করলেন শেখ শাহজাহান। মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় শেখ শাহজাহানকে। সেখানেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
সন্দেশখালির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড় গোটা রাজ্য। এদিন মেয়াদ শেষে ফের বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় শেখ শাহজাহানসহ ১৪ জনকে। প্রিজন ভ্যান থেকে কোর্ট লক-আপে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেশখালির একসময়ের ডন শেখ শাহাজাহান বললেন, "ওটা ফেক ভিডিও নয়। ওটা অরিজিনাল। সত্য ঘটনা বেরিয়ে পড়েছে।"
গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়েছিল ইডি। সেই সময়েই স্থানীয়দের হাতে মার খেয়ে পালিয়ে আসতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের। অভিযোগ ওঠে, শেখ শাহজাহানের বাড়ির দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করতেই হাজার হাজার মহিলা পুরুষ ইডির দিকে তেড়ে এসেছিলেন লাঠি, বাঁশ, লোহার রড হাতে। তাতে রক্তাক্ত হতে হয় বেশ কয়েকজন ইডি আধিকারিককে। এরপরেই ফেরার হয়ে যান শাহজাহান।
তারপরেই শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পথে নামে সন্দেশখালির বাসিন্দাদের একাংশ। সংগঠিত হন গ্রামের মহিলারা। নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। কার্যত গণরোষের মুখেই শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ দুই নেতা উত্তম সর্দার এবং শিবপ্রসাদ হাজরা ওরফে শিবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরপর ৫৬ দিন পর অবশেষে পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে। পরে পুলিশের থেকে তাকে হেফাজতে নেয় ইডি।
জানা যায়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৩-এর মধ্যে শাহজাহানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৬টি জমি দখল, ১৩টি খুন অথবা খুনের চেষ্টা, ৫টি ধর্ষণ এবং ১৭টি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ হয়েছে। কিন্তু একটি অভিযোগেরও এফআইআর হয়নি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতারের পর থেকে জেলেই রয়েছেন এই তৃণমূল নেতা।
এরইমধ্যে শনিবার সকালে সন্দেশখালির এক বিজেপি নেতার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে ওই বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা গিয়েছে যে সন্দেশখালির ঘটনা পুরোটাই সাজানো। মহিলাদের ধর্ষণের ঘটনাও মিথ্যে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল। এই ভাইরাল ভিডিওয় যে বিজেপি নেতার স্বীকারোক্তি সামনে এসেছে, সেই গঙ্গাধর কয়াল বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। এই ভিডিও সামনে আসার পরে তিনি নিজেও সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। জেল থেকে কোর্টের পথে এই ভিডিওয় সত্য উদ্ঘাটন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শেখ শাহজাহান।