সন্দেশখালিতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দাদা ও ভাইপো গ্রেফতারের পর অবশেষে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা।

মুসা মোল্লা
শেষ আপডেট: 6 January 2026 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির (Sandeshkhali) ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূলকর্মী মুসা মোল্লা (Musa Molla)। ন্যাজাট (Nazat) এলাকা থেকেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার জমি দখলের অভিযোগে তদন্তে গিয়ে ন্যাজাট থানার (Nazat Police Station) পুলিশের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল সে। এই গ্রেফতারের পর সন্দেশখালির ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।
ভেড়ি (Bheri) তৈরির জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর চাপ, জোর করে জমি দখলের অভিযোগ, আর সেই সূত্র ধরেই তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ। সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) শুক্রবারের ঘটনায় আহত হন এক আধিকারিক-সহ মোট ৬ জন পুলিশ কর্মী। ফের সেই ঘটনার কেন্দ্রে উঠে আসে তৃণমূলের (Trinamool Congress) নাম। মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা বয়ারমারি দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের (Boyarmari-2 Gram Panchayat) চুঁচুড়া এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তার দাপট নিয়ে ক্ষোভ জমছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি দখলের মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে ধরতেই শুক্রবার ন্যাজাট থানার পুলিশ যায় বাসন্তী হাইওয়ের (Basanti Highway) চুঁচুড়া মোড়ে। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি আচমকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। ওই রাতেই ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন মুসাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল তার দাদা ও দুই ভাইপো। এই তিনজনই পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরে জড়িত ছিল এবং মুসাকে এলাকা ছাড়তে সাহায্য করে। প্রথম দফায় ধৃতদের জেরা করে তাদের নাম উঠে আসে। পরে ফোনের টাওয়ার লোকেশন (Tower Location) ট্র্যাক করে রবিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) জীবনতলা (Jibantala) এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতরা হল মুর্তাজা মোল্লা (Murtaza Molla) এবং তাঁর দুই ছেলে মোন্তাজুল মোল্লা (Montazul Molla) ও মনোয়ার হোসেন মোল্লা (Monowar Hossain Molla)। এই তিনজনের গ্রেফতারের পর ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ১২। সোমবার পর্যন্ত মুসার কোনও টিকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও মেলেনি কিছুই।
চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে তদন্ত এগোলে। একসময় আইজুল গাজি (Ijul Gazi) নামে এক ব্যক্তির চার বিঘা জমিতে ধানচাষ করত মুসা। অভিযোগ, সেই চাষের জমিকেই জোর করে ভেড়িতে রূপান্তর করে সে। জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভেড়ির মাছ বিক্রির টাকাও দেওয়া হত না আইজুলকে। বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট আদালতে (Basirhat Court) মামলা হয়। জারি হয় ১৪৪ ধারা (Section 144)। কিন্তু নোটিস উপেক্ষা করে বারবার হাজিরা এড়ায় মুসা।
শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ল। সন্দেশখালির ঘটনায় তদন্ত এখন নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।