
সন্দেশখালির রাজবাড়িতে সিবিআই-নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 2 May 2024 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: ভাই আলমগীর সহ শাহজাহানের বেশ কয়েকজন সঙ্গী এখন জেলবন্দি। কয়েকদিন আগে বসিরহাট আদালত থেকে ফেরত যাওয়ার সময়ে পুলিশ ভ্যানেই শেখ শাহজাহানকে কাঁদতে দেখা যায়। সন্দেশখালির 'বাঘ' শাহজাহানের দাপট এখন উধাও। গত কয়েকদিনে শাহজাহান ও তাঁর সঙ্গী সাথীদের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল করে নেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়েছে সিবিআই পোর্টালে। সেই অভিযোগের তদন্তেই রাজবাড়ি এলাকায় গেলেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। অভিযোগকারী বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বললেন তাঁরা।
তদন্তকারীদের সামনে পেয়ে তাঁদের উপর হওয়া অন্যায়-অবিচারের কথা জানালেন অভিযোগকারীরা। অধিকাংশেরই অভিযোগ, তাঁদের অনেক জমি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে শাহজাহান ও তাঁর বাহিনী লুঠ করেছে। এখন তাঁরা সিবিআইয়ের কাছে নালিশ জানিয়ে সেই জমিই ফেরত পেতে চান।
সিবিআইয়ের অনুমান, আবু তালেব মোল্লার বাড়িতে যে বেআইনি অস্ত্র ভাণ্ডার মজুত ছিল সেই অস্ত্র দিয়েই গ্রামের মানুষকে ভয় দেখাত শাহজাহান বাহিনী। ওই মজুত রাখা বিদেশি অস্ত্রের একাংশ শেখ শাহজাহানের, এমনটাই দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা বলছেন, গ্রামবাসীরা তাঁদের অভিযোগে জানিয়েছেন, শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ প্রসেন গায়েন ও জিয়াউদ্দিন মোল্লা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে একাধিক জমি লুঠ করেছে।
জিয়াউদ্দিন এখন ইডি হেফাজতে রয়েছেন। তিনি সরবেড়িয়া আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। সেই পঞ্চায়েতের সদস্য প্রসেন গায়েন। সুন্দরখালি ও লাউখালি গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক চাষের জমির চরিত্র বদল করে সেখানে একদিকে ভেরি তৈরি করেছে। অন্যদিকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে জমি কেড়ে নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই ঘটনা বসিরহাট মহকুমা শাসক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরে জানিয়ে কোনও সুফল মেলেনি। আদালতের নির্দেশে সন্দেশখালির ঘটনা তদন্ত করছে সিবিআই। সিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে অভিযোগ করেছেন বীরেন গায়েন, বিনয় গায়েন, চঞ্চল গায়েন, মনোরঞ্জন গায়েন, সুজিত গায়েনরা।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁদের অভিযোগ সঠিক কিনা যাচাই করতে নথিপত্র দেখেন ও তাঁদের বয়ান রেকর্ড করেন। সিবিআই আধিকারিকদের অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, ২০২১ এর নির্বাচনের পর শেখ শাহজাহানের গুন্ডাবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে এইসব জমি লুঠ করেছে। ভয়ে তাঁরা মুখ খুলতে পারেনি। এখন তাঁদের পূর্বপুরুষদের জমি ফিরে পেলে আবার রুজি-রোজগারের পথে ফিরতে পারবে।