দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝ আকাশে রাতের বেলা সাফাই হয় বিমানের বাথরুম। আর সেই বর্জ্য এসে পড়ে অনেক ফুট নীচে বাড়িঘরের উপর। এর ফলে বিমানবন্দর সংলগ্ন অনেক বাড়ি নোংরা হচ্ছে।
অভিযোগটা অবশ্য পুরনো। ২০১৬ সালের। গ্রিন ট্রাইবুনালে এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। আর তারই জেরে এ বার সিভিল অ্যাভিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেলকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল। বলা হয়েছে ডিরেক্টরের মাইনেই নাকি আটকে দেওয়া হবে।
কিন্তু হঠাৎ এমন হুঁশিয়ারি কেন? একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক।
বেশ কয়েকমাস আগে এফএমের এক জনপ্রিয় প্র্যাঙ্ক শো'তে বলা হয়েছিল একটা মজার কথা। কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের একজন নাকি এক গুরুতর অভিযোগ করেছেন। রাতে প্লেন যাতায়াতের শব্দে নাকি তাঁর ঘুম হয় না। এ বার ফের সেই প্লেন নিয়েই উঠল অভিযোগ। তবে সেটা শব্দের নয়। বরং বিমান থেকে ফেলা বর্জ্য পদার্থ নিয়ে। রাতে মাঝ আকাশে বিমানের বাথরুম পরিষ্কার করে ফেলে দেওয়া হয় আবর্জনা। আর তার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দিল্লির বিমানবন্দর সংলগ্ন বহু বাড়ি। এমনটাই অভিযোগ এনেছিলেন দিল্লির এক বাসিন্দা।
২০১৬ সালে দিল্লির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাতওয়ান্ত সিং দাহিয়া একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ তিনি যে অঞ্চলে থাকেন সেখানকার বাড়িঘর দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে। তবে এই ক্ষয়ের পিছনে রয়েছে এক অদ্ভুত কারণ। রাতের বেলায় প্লেন থেকে নাকি বর্জ্য পদার্থ ফেলা হয় ওই এলাকায়। আর তার জেরেই নষ্ট হচ্ছে বাড়িঘর।
'১৬ সালের দিওয়ালির সময় এই অভিযোগ দায়ের করেন দাহিয়া। তারপর নড়েচড়ে বসেছিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল। এমনকী এ ধরণের ঘটনা হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশও দেন এনজিটি। কিন্তু এত কিছুর পরেও কোনও লাভ হয়নি। বরং ট্রাইবুনালের কড়া বার্তার পরেও নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারেনি সিভিল অ্যাভিয়েশন। আর এতেই বেজায় চটেছেন এনজিটি'র কর্তারা। তাই বাধ্য হয়েই মাইনে কেটে নেওয়ার মতো জরিমানার ভয় দেখানো হচ্ছে।