.webp)
শেষ আপডেট: 7 October 2023 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে দিল্লি গিয়েছিল তৃণমূল। এবার সেই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই রাজ্যে এলেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতি মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি।
এমনটা যে হবে, আগেই আন্দাজ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ধর্না মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেছিলেন, “বাংলার মানুষের অধিকারের দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশি জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। আজ না হোক কাল, এই বিষয়েই দেখবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বাংলায় এসে সাংবাদিক বৈঠক করছেন!”
কার্যক্ষেত্রে হলও তাই। এদিন সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের বিজেপির অফিসে বসে ৩ অক্টোবরের ঘটনার জন্য তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর দাবি, “১০০ দিনের কাজ সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বিস্তর দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি ঢাকতেই ধর্না আন্দোলন।” একই সঙ্গে তিনি জানান, আন্দোলনকারীরা চাইলে তিনি দেখা করতে রাজি।
সাধ্বীর কথায়, “যেখানে বলবেন সেখানে দেখা করতে রাজি!” যা শুনে ধর্না মঞ্চ থেকে অভিষেকের কটাক্ষ, “ঠ্যালার নাম বাবাজি!”
কলকাতার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এদিন সাধ্বী ফের দাবি করেছেন, “তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম। প্রথমে বলা হয় পাঁচজন দেখা করবে, পরে বলে দশ জন। তাতেও রাজি হয়। তখন বলে বঞ্চিত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করবে। আসলে ওদের দেখা করার ইচ্ছে ছিল না, সময় নষ্ট করতে দিল্লি গিয়েছিল।”
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন সাধ্বী। তাঁর কথায়, “পালিয়ে কেন যাব? পালিয়ে গেলে কি কলকাতায় আসতাম!” যা শুনে তৃণমূলের একাংশ কটাক্ষের সুরে ‘ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি’র প্রবাদ আউড়াচ্ছেন।
বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট। তার আগে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ইস্যুতে কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে ফের কলকাতায় যেভাবে আন্দোলনকে তীব্রতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল তাতে যারপরনাই অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। সেকারণেই দিল্লির পর এই একই ইস্যুতে কলকাতাতে এসেও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীকে সাংবাদিক বৈঠক করতে হল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লিতে ধর্না কর্মসূচিতে বসেছিল তৃণমূল। ৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের। অভিযোগ, দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও দেখা না করে পালিয়ে যান সাধ্বী নিরঞ্জন। প্রতিবাদে কৃষি ভবনের সামনেই বিক্ষোভে বসেন অভিষেকেরা। বিক্ষোভ হঠাতে তাঁদের চ্যাংদোলা করে প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
রাত ১১টা নাগাদ থানা থেকে বেরিয়েই অভিষেক জানিয়েছিলেন রাজভবন অভিযানের কথা। রাজ্যপাল কেন্দ্রের প্রতিনিধি। তাই তাঁর কাছে ২০ লক্ষ বঞ্চিত মানুষের বকেয়া প্রাপ্যের দাবি জানাতে গত ৫ অক্টোবর রাজভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেরল থেকে দিল্লি হয়ে উত্তরবঙ্গে চলে যান রাজ্যপাল। এমনকী চিঠির জবাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে উত্তরবঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন রাজ্যপাল। এরপরই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা না করে রাজভবনের সামনে ধর্না মঞ্চ থেকে সরবেন না বলে জানিয়ে দেন অভিষেক। শনিবার তিনদিনে পা দিল সেই ধর্না।