
সাদ্দাম সর্দার।
শেষ আপডেট: 18 July 2024 07:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের হাতে ধরা পড়ল কুলতলির সেই নকল সোনার কারবারি, সাদ্দাম সর্দার। বুধবার গভীর রাতে নাটকীয় অভিযানের পরে, কুলতলির চুপড়িঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার থেকে তন্নতন্ন করে সাদ্দামের খোঁজ চালানো হলেও, সে নাকের ডগাতেই লুকিয়েছিল একটি মাছের ভেড়ির চালাঘরে। বুধবার রাতে খবর পেয়ে সটান সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। এবারেও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সাদ্দাম, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। নকল সোনা প্রতারণাককে ধরে ফেলা গেছে, আজই তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। সাদ্দামের ভাই সইরুলকে এখনও খুঁজছে পুলিশ।
রাত তখন সওয়া একটা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চুপড়িঝাড়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। নির্দিষ্ট মাছের ভেড়ির চালাঘরটি ঘিরে ফেলে তারা। সেখানেই লুকিয়ে ছিল সোনা পাচার চক্রের মাথা সাদ্দাম, সে সময়ে ঘুমোচ্ছিল সে। পুলিশকে দেখেই ফের পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। ওই ভেড়িতে সাদ্দামকে যে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই মান্নান খানকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা ছিল, সাদ্দাম কুলতলি থেকে বেশি দূর পালাতে পারেনি। আশেপাশের সবকটি থানাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল, সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাছেও সাদ্দামের ছবি পাঠানো হয়েছিল। ফলে তার এলাকাছাড়া হওয়া সম্ভব ছিল না। তাই বলে যে কুলতলির মধ্যেই এভাবে লুকিয়ে থাকবে সে, তাও ভাবতে পারেনি পুলিশ।
আসল সোনার মূর্তির ছবি দেখিয়ে নকল মূর্তি বিক্রি করত এই সাদ্দাম। শুধু নকল সোনা নয়, বহুমূল্য মূর্তিরও কারবার চালাত তার দলটি। কারবার চলত জাল নোটেরও। পুলিশসূত্রে জানা গেছে, কম দামে সোনা বিক্রির টোপ দিয়ে চক্রের লোকজন এই পয়তারহাট গ্রামে ডেকে নিয়ে আসত ক্রেতাদের। তারপর চলত দরদস্তুর। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে নকল সোনা গছিয়ে দেওয়া হত ক্রেতাদের। শুধু তাই নয় নিজেদের ডেরায় ঢুকিয়ে লুঠপাট ও খুন করারও অভিযোগ রয়েছে সাদ্দাম ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। প্রায় ১৫ বছর ধরে চলত এই কারবার। এখন পুলিশের তল্লাশি শুরুর পরেই গা ঢাকা দিতে থাকে এই চক্রের লোকজন।
খবর পেয়ে সোমবারই সাদ্দামকে ধরতে গ্রামে ঢুকেছিল পুলিশ। কিন্তু প্রবল বাধার মুখে পড়ে তারা। অভিযোগ, সাদ্দামকে ছিনিয়ে নিতে মারধর করা হয় পুলিশকে। সাদ্দামের ভাই সইরুল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তারপর থেকেই বেপাত্তা দুই ভাই। তাদের স্ত্রীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তারপরেই শুরু হয় সাদ্দামের বাড়িতে তল্লাশি। সাদ্দামের খাট সরাতেই মেলে ৩০ ফুটের বাঁধানো সুড়ঙ্গ। যেই সুড়ঙ্গ গিয়ে শেষ হয়েছে মাতলা নদীতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই নম্বর জ্বালাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পয়তারহাটে নকল সোনা বিক্রির চক্র সক্রিয়। সক্রিয় দুষ্পাপ্য মূর্তি পাচার চক্রও। দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছিল। তার ভিত্তিতেই এদিন অভিযান চালায় পুলিশ।