বিজেপি থেকে ফিরে আসার পর সব্যসাচী দত্তকে বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর রানাঘাটে উপ নির্বাচনে দায়িত্ব দিয়ে তাঁকে পাঠানোও হয়েছিল।

সব্যসাচী দত্ত এবং চিরঞ্জিত
শেষ আপডেট: 9 June 2025 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মে মাসের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে তৃণমূলের (TMC) জেলা সংগঠনে রদবদল হয়েছিল। একমাত্র বাদ ছিল বারাসত সাংগঠনিক জেলা (Barasat)। ওই সাংগঠনিক জেলায় সেদিন সভাপতি বা চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হয়নি। দ্য ওয়াল সেদিনই জানিয়েছিল, সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) নিয়ে একটা মতান্তরের কারণেই বারাসতের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
শেষমেশ দেখা গেল, সেই খবরই সত্য ছিল। বিজেপি থেকে ফিরে আসার পর সব্যসাচী দত্তকে বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর রানাঘাটে উপ নির্বাচনে দায়িত্ব দিয়ে তাঁকে পাঠানোও হয়েছিল। এবার সব্যসাচী দত্তকে বারাসত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার সভাপতি পদে রইলেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)।
সব্যসাচীই কেন?
একুশের ভোটের আগে তৃণমূল থেকে যে সব নেতারা বিজেপিতে গিয়েছিলেন তাঁদের অন্যতম ছিলেন সব্যসাচী। ভোটে হেরে সব্যসাচী ফিরে এসেছিলেন তৃণমূলে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এভাবে দলে ফিরে আসা নেতাদের তড়িঘড়ি পদ দেওয়ায় আপত্তি ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisekh Banerjee)। তাঁর মত, ছিল আগে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। সংগঠনের কাজ করে তবেই কোনও পদ পাবেন। কিন্তু সব্যসাচীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছিল। দলের ফেরানোর পর সব্যসাচীকে বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সব্যসাচীকে বারাসত সাংগঠনিক জেলায় একটা দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভেবে রেখেছিলেন দিদি। তবে এ ব্যাপারে আপত্তি ছিল অভিষেকের। তাতেই এই সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি ও চেয়ারম্যান নিয়োগের ব্যাপারটা স্থগিত ছিল। শেষমেশ সোমবার তৃণমূলের তরফে ঘোষণা করা হয় যে সব্যসাচী দত্তকে বারাসত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
বারাসত বিধানসভার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী?
তৃণমূলের তরফে এদিনের ঘোষণা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, বারাসত বিধানসভা আসনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবার একটা একটা অদৃশ্য দেওয়াল লিখনও হয়ে গেছে। বারাসত বিধানসভায় গত তিনটি মেয়াদ ধরে বিধায়ক হলেন অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। তাঁর ৬৯ বছর বয়স। এ বছর নভেম্বরেই ৭০ হয়ে যাবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কদিন আগেই রাজনীতি থেকে অবসরের কথা বলেছেন চিরঞ্জিৎ। অনেকে মনে করছেন, এহেন পরিস্থিতিতে বারাসত থেকে বিধানসভায় প্রার্থী করা হতে পারে সব্যসাচী দত্তকে। সোমবার কার্যত সেই ক্ষেত্র তৈরি হয়ে গেল।
কী বলেছিলেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী?
মে মাসে তৃণমূলের জেলা সংগঠনে রদবদলের তিন দিন পর বারাসতে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘হ্যালো কাউন্সিলর’ অ্যাপ-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বিধায়ক ও অভিনেতা চিরঞ্জিত। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “এখানে (বারাসতে) ১৫ বছর ধরে আছি। মানুষের সঙ্গে মিশলাম, ভালো-মন্দে রইলাম। প্রথমবার সুপারস্টার চিরঞ্জিৎ জিতেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়, তৃতীয়বার তো সেটা হয়নি। মানুষ আমাকে যাচাই করেছে। বুঝেছি বারাসতের মানুষ আমাকে পছন্দ করে ও সম্মান করে। সে কারণেই আমাকে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমার অনেক বয়স হয়েছে। তাই এখন আমি নিজের মতো বাঁচতে চাই। আমার মনে হয় এবার সময় এসেছে হস্তান্তরের”। তাঁর এই ইচ্ছার কথা তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছেন বলে সেদিন জানান চিরঞ্জিৎ।
চিরঞ্জিতের সেই কথা সোমবারের ঘটনার মধ্যে আসলে যোগসূত্র খুঁজছেন তৃণমূলের অনেকে। অবশ্য কারও কারও মতে, বারাসত নয়, সব্যসাচীকে প্রার্থী করা হতে পারে রাজারহাট নিউটাউন আসনে। সেই পরিস্থিতিতে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের সম্ভাবনা বিপন্ন হতে পারে। তবে পরের কথা পরে। আপাতত বারাসত সাংগঠনিক জেলায় চেয়ারম্যান পদ সামলাবেন সব্যসাচী। জেলার সভাপতি কাকলি ঘোষদস্তিদার। যাঁর সঙ্গে সব্যসাচীর যে খুব সখ্য ছিল বা আছে তেমনটা অবশ্য তৃণমূলে বিশেষ শোনা যায়নি বলে দলের মধ্যেই গুঞ্জন।