রাজ্যের নানা প্রান্তে হাজার হাজার স্বয়ংসেবক ও পদাধিকারী নির্দিষ্ট গণবেশ পরে পথে নামেন। কাঁথিতে পথ সঞ্চালনায় যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শেষ আপডেট: 22 September 2025 01:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ উদযাপনের বিশেষ কর্মসূচিতে মহালয়ার দিন পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অনুষ্ঠিত হল পথ সঞ্চালনা কার্যক্রম। রাজ্যের নানা প্রান্তে হাজার হাজার স্বয়ংসেবক ও পদাধিকারী নির্দিষ্ট গণবেশ পরে পথে নামেন। কাঁথিতে পথ সঞ্চালনায় যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, ‘বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন হিসেবে আরএসএসের একশো বছরের ইতিহাস দেশসেবা, সংস্কৃতি রক্ষা ও সমাজকল্যাণের এক অনন্য উদাহরণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ মাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা নিয়েই স্বয়ংসেবকরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, যা গোটা দেশবাসীর কাছে অনুপ্রেরণার।’
প্রতি বছরই বিজয়া দশমীতে আরএসএসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও সরসঙ্ঘচালকের ভাষণ হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের স্বয়ংসেবকরা সে সময় দুর্গাপুজো ও বিজয়ার ব্যস্ততায় থাকেন। তাই এ বছর মহালয়াতেই আয়োজন করা হয় শতবর্ষের ‘একত্রীকরণ’ কর্মসূচি। দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত প্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায়ের দাবি, রাজ্যজুড়ে প্রায় এক হাজার জায়গায় পথ সঞ্চলন হয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গেই প্রায় তিনশো।
আরএসএস সূত্রের দাবি, রাজ্যজুড়ে এক লক্ষেরও বেশি স্বয়ংসেবক এ দিন মহালয়ার একত্রীকরণে অংশ নেন। পূর্ব ভারত ক্ষেত্রের একাধিক শীর্ষ পদাধিকারী—রমাপদ পাল, জলধর মাহাতো, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়, জিষ্ণু বসু সহ অনেকেই পথে নামেন।
বিপ্লব রায় জানান, বাংলার সঙ্গে আরএসএসের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। হেডগেওয়ার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পড়তে এসেই স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত হন, অনুশীলন সমিতির আখড়ায় প্রশিক্ষণ নেন। সেই আখড়ার লাঠিই আজ সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকদের হাতে প্রতীকী হয়ে আছে। তাই বাংলার সংস্কৃতি ও ভাবাবেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্যই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই আরএসএস বাংলায় এভাবে কর্মসূচি সাজাচ্ছে। শতবর্ষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জমায়েতের ক্ষেত্রেও বাঙালিকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের বাৎসরিক ভাষণ অবশ্য নির্ধারিত মতো বিজয়া দশমীতেই হবে। সেদিন পশ্চিমবঙ্গের স্বয়ংসেবকরাও সামান্য সময়ের জন্য একত্রিত হয়ে সেই ভাষণ শুনবেন। তবে মহালয়ার একত্রীকরণ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বাংলায় মূল শতবর্ষ উদযাপন সেরে ফেলল আরএসএস।