জঙ্গিদের সঙ্গে লড়বে ‘রোবট!’ সন্ত্রাসদমনে নতুন অস্ত্র ভারতীয় সেনার হাতে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্তে নজরদারি চালাবে, তরতর করে গাছ বাইবে, গ্রেনেড হামলার মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে—এমনই লড়াকু রোবট বাহিনীকে প্রস্তুত করছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। জম্মু-কাশ্মীরে বাড়তে থাকা সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। নিয়ন
শেষ আপডেট: 13 November 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্তে নজরদারি চালাবে, তরতর করে গাছ বাইবে, গ্রেনেড হামলার মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে—এমনই লড়াকু রোবট বাহিনীকে প্রস্তুত করছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। জম্মু-কাশ্মীরে বাড়তে থাকা সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে আধুনিক অস্ত্র নিয়ে প্রতিদিন ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট একাধিক জঙ্গি সংগঠন। সন্তাসের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে গোটা দেশেই। এই অবস্থায় সুরক্ষার পাঁচিল গড়ে তুলবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই রোবট, এমনটাই জানানো হয়েছে ভারতীয় সেনার তরফে।
সেনা সূত্রে খবর, প্রাথমিক ভাবে ৫৫০টি রোবোটিক্স ইউনিট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রোবটগুলির কার্যক্ষমতা থাকবে অন্তত ২৫ বছর। ভারতীয় সেনার এক উর্ধ্বতন কর্তার কথায়, এই রোবটগুলি আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। এরা যেমন সিঁড়ি ভাঙতে পারবে দ্রুত, তেমনিই গাছে চড়তে পারবে অসাধারণ ক্ষিপ্রতায়। সেনাবাহিনীকে ঠিক যেমন ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ঠিক তেমনই ডেটা ইনপুট করা হবে এদের সিস্টেমে। আগুনের মধ্যে ঝাঁপ দিতে পারবে, জলে নামতে পারবে, গ্রেনেড বা যে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ছুড়েও কাবু করা যাবে না এই রোবট-সেনাদের। যতরকম ভাবেই বাধার প্রাচীর গড়ে তুলুক না কেন জঙ্গিরা, অনায়াসে তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে এই রোবট-বাহিনী।

এই রোবট-সেনাদের মূলত ব্যবহার করা জম্মু ও কাশ্মীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন এলাকায়। সেনাবাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় রাইফেলের জওয়ানরা রোবট পেলে সীমান্তে নজরদারি অনেক সহজ হবে। কারণ, নজরদারি চালাতে রোবটগুলিতে থাকবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং ট্রান্সমিশন সিস্টেম। ক্যামেরার ব্যাপ্তি হবে ১৫০-২০০ মিটার। দিনে-রাতে যে কোনও বিপদসঙ্কুল এলাকায় ঢুকে গিয়ে ছবি ও তথ্য যোগাড় করে আনতে পারবে এই রোবটরা। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই জঙ্গি দমনের ছক সাজাবে ভারতীয় সেনা। সেনা টহলদারির পথে কোথাও বিস্ফোরক লোকানো আছে কি না তারও হদিশ দেবে এই রোবটরা। বিপদের গন্ধ পেলে আগে থেকেই সতর্ক করবে জওয়ানদের। পাশাপাশি, সেনা জওয়ানদের কাছে প্রয়োজনীয় অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজেও রোবটগুলি ব্যবহার করা যাবে।
১৯৯০ সালে এমনই রোবট-সেনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ডিরেক্টর জেনারেল। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, জঙ্গিরা তাদের যুদ্ধ কৌশলে বদল এনেছে। এখন তারা আর শুধু সীমান্তে হামলা চালায় না, জঙ্গিরা বেছে নিচ্ছে গ্রাম-শহরের সাধারণ মানুষদের। প্রত্যন্ত এলাকায় ঢুকে ঘাঁটি তৈরি করছে। সেখান থেকে অতর্কিতে হামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর উপর। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় রাইফেলের জওয়ানদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সেই কারণেই নজরদারি ও নিরাপত্তার কাজে রোবট ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল সেনাবাহিনী। সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।