জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের তরফে জানানো হয়েছে, কে কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে ভোটে লড়বেন, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা
শেষ আপডেট: 28 March 2026 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে (RG Kar) মহিলা চিকিৎসককে নারকীয় ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার ১৯ মাস পূর্ণ হওয়ার মুখেই বঙ্গ রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন নির্যাতিতার মা (Ratna Debnath BJP)। যে পানিহাটিতে নির্যাতিতা থাকতেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) সেই কেন্দ্র থেকেই বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন রত্না দেবনাথ। এই সিদ্ধান্ত জানাজানি হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। এই আবহে এবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট’ (WBJDF)। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা তাঁদের সংগঠনগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বনাম সংগঠনের নীতি
জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের তরফে জানানো হয়েছে, কে কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে ভোটে লড়বেন, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের সমর্থন বা আপত্তি— কোনওটাই থাকার কথা নয়। তবে তাঁদের প্রশ্ন, এই নিষ্ঠুর ব্যবস্থাই কি দায়ী নয়, যা একজন সন্তানহারা মাকে এই অনুভূতিতে পৌঁছে দিয়েছে যে ক্ষমতার অলিন্দে না গেলে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়?
বিজেপি-র ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা
নির্যাতিতার মা রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলকে বেছে নিলেও, বিজেপি-র রেকর্ড নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে ফ্রন্ট। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তিনি এমন একটি দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, যারা ধর্ষকের গলায় মালা পরিয়ে উল্লাস করে এবং যাদের বহু প্রভাবশালী নেতা নারী নির্যাতনের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থেকে নির্যাতিতার পরিবারের ওপর দমনপীড়ন চালিয়েছেন। সেই দল শর্তসাপেক্ষে ন্যায়বিচার এনে দেবে— এই ধারণা ‘সোনার পাথরবাটি’ ছাড়া কিছু নয়।” চিকিৎসক পড়ুয়াদের মতে, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে নারী নির্যাতনের রেকর্ড এবং শাসকদলের ভূমিকা অত্যন্ত ভয়ানক।
ব্যক্তিগত আক্রমণে নিষেধ
সংগঠন স্পষ্ট করেছে যে, আদর্শগত অবস্থানের কারণে তাঁরা বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস বা এসইউসিআই— কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়াই করা প্রার্থীকেই সমর্থন করতে পারেন না। কিন্তু নির্যাতিতার মাকে নিয়ে যে কুরুচিকর ব্যক্তিগত আক্রমণ সমাজমাধ্যমে চলছে, তারও নিন্দা করেছে ফ্রন্ট। তাঁদের বক্তব্য, একজন অসহায় মা কতটা বিধ্বস্ত থাকলে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতে দেন, তা তাঁর জায়গায় না দাঁড়ালে বোঝা অসম্ভব। তাই তাঁর অসহায়তার প্রতি মানবিক হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আন্দোলনকারীদের মর্মবেদনা
বিবৃতিতে একটি বিষয়ের ওপর গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। নির্যাতিতার মা-বাবার একাংশের মন্তব্য ছিল— ‘আন্দোলনকারীরা সবাই নিজের স্বার্থে আন্দোলন করেছে’। এতে চিকিৎসকরা অত্যন্ত আহত। তাঁদের দাবি, যাঁরা বৃষ্টিতে ভিজে রাত জেগে রাস্তায় পড়েছিলেন, তাঁরা কোনও নির্বাচনী ‘স্বার্থ’ বা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং এই অপরাধের নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তনের দাবিতেই পথে নেমেছিলেন।