
আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ
শেষ আপডেট: 18 August 2024 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পিছনের গেট দিয়ে সিবিআই অফিসে প্রবেশের সময় আরজি কর্রের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ বেশ জোর গলায় বলেছিলেন, "কারা রটিয়ে দিয়েছে, আমা্কে নাকি গ্রেফতার করা হয়েছে, এটা ঠিক নয়! আমাকে গ্রেফতার করা হয়নি।" এও জানান, তিনি সিবিআইকে তদন্তে সবদিক থেকে সহযোগিতা করছেন।
প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা জেরার পর শনিবার গভীর রাতে সিজিও থেকে বেরনোর সময় সেই সন্দীপবাবু মিডিয়াকে দেখে 'রা'ও কাড়লেন না! সিবিআই সূত্রের খবর, রবিবার ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে। এরই মাঝে শনিবার রাতে সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে সন্দীপবাবু এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে হেফাজতে নিয়ে জেরার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।
আরজি করে ছাত্রী খুনের ঘটনায় অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনা আড়ালের অভিযোগ আগেই এনেছিলেন ডাক্তারি পড়ুয়ারা এবং নির্যাতিতার পরিবার। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে এ ব্যাপারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। ঘটনা আড়াল করার অভিযোগ সত্যি হয়ে থাকলে তাতে অধ্যক্ষর জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, সিবিআইয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার হাজিরা দেননি অধ্যক্ষ। পরিবর্তে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এরপরই রাস্তা থেকে অধ্যক্ষকে তুলে শুক্রবার দুপুরে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। ছাত্রীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অধ্যক্ষ কেন বৃহস্পতিবার তদন্তকারীদের হাজিরা এড়িয়ে গেলেন তদন্তে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, সেদিন হাসপাতালের সহকারী সুপার টেলিফোন করে মেয়ে 'সুইসাইড' করেছে বলে জানিয়েছিলেন। সিবিআই সূত্রের খবর, ওই সহকারী সুপার জেরার মুখে জানিয়েছেন, অধ্যক্ষর নির্দেশেই তিনি একথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন মেয়েটির পরিবারকে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ কী জবাব দিয়েছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিকের কথায়, "অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে ঘটনাকে আড়াল করার একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। তদন্ত সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"