পরীক্ষাপদ্ধতির বদল এবং ডিজিটাল পদক্ষেপ—যেমন অনলাইন অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম—উচ্চ মাধ্যমিকের ছবিকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে বলে মনে করছে সংসদ।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 September 2025 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশে (Higher Secondary Result) আর বেশি দেরি নেই। ৩১ অক্টোবরের আশপাশেই ফল প্রকাশ হতে পারে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (Council of Higher Secondary Education) সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তবে কয়েক দিন আগে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও, তা খুব একটা বেশি নয় বলেই জানাচ্ছেন তিনি। পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “খুব তাড়াতাড়ি রেজাল্ট প্রকাশিত হবে।”
এই প্রথম সেমিস্টার পদ্ধতিতে হয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সেই ব্যবস্থাকে কার্যত সফল বলেই মানছে সংসদ। তাদের মতে, পরীক্ষার চাপ কম থাকায় এবছর পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার অনেকটাই কম। সবমিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ৯৩৫, ছাত্র ২ লক্ষ ৯০ হাজার ৪০৭। পরীক্ষায় বসেছে ৯৮.৪২ শতাংশ পরীক্ষার্থী। শুধুমাত্র ১০ হাজার ৪৩৭ জন অনুপস্থিত ছিলেন—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এছাড়া, পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলার বিষয়েও সংসদের তরফে আত্মবিশ্বাসের সুর। জানানো হয়েছে, ১২ দিনের পরীক্ষায় মাত্র ২ জন পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোনসহ ধরা পড়েছে। ফিজিক্স পরীক্ষার দিন হাওড়ার জগৎবল্লভপুর হাই স্কুলের এক ছাত্রী ও নদিয়ার এক ছাত্র রাষ্ট্র বিজ্ঞানের পরীক্ষার দিনে ধরা পড়েন। দু’জনেরই পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ব্যবহারের জন্য বাতিল হয়েছে সন্তোষপুর হাইস্কুলের এক ছাত্রীর পরীক্ষাও।
সংসদ সভাপতি আরও জানান, “৩৮ থেকে ৩৯ লক্ষ ওএমআর শিট পরীক্ষা চলছে কেন্দ্রীয়ভাবে, কলকাতায়। এখনও পর্যন্ত কোনও বড় সমস্যা দেখা যায়নি। পরীক্ষার্থীরা অত্যন্ত ভাল ভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।”
২৫ সেপ্টেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন সংসদের আধিকারিকরা। সেখানে ফলপ্রকাশ ও সামগ্রিক কাজের খতিয়ান নিয়ে আলোচনা হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য আরও কী কী উন্নয়ন সম্ভব, তাও আলোচনা হবে। চিরঞ্জীববাবু বলেন, “কোথাও কোথাও আমাদের ছোট ছোট বিষয় পরিমার্জন করতে হবে। কোথায় কী আছে, দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বায়োলজির প্রশ্নপত্র নিয়ে ওঠা বিতর্ক নিয়েও সংসদ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। জানানো হয়েছে, যে দুই প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক ছিল, পরীক্ষার্থীরা যদি সেগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন, তবে সেই অনুযায়ী নম্বর দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে পরীক্ষাপদ্ধতির বদল এবং ডিজিটাল পদক্ষেপ—যেমন অনলাইন অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম—উচ্চ মাধ্যমিকের ছবিকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে বলে মনে করছে সংসদ। এখন নজর শুধু একটাই দিকে—ফলপ্রকাশ।