.webp)
সংরক্ষণ বিতর্ক।
শেষ আপডেট: 16 May 2024 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের ময়দানে সংরক্ষণ নিয়ে বিতর্ক বাঁধিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে চাকরি-শিক্ষায় তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি-দের প্রাপ্য সুবিধা কেড়ে নিয়ে মুসলিমদের দিয়ে দেওয়া হবে বলে জোরদার প্রচার শুরু করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের নানাপ্রান্তে একথা বলে বেড়াচ্ছেন তখন অনুন্নত শ্রেণির জাতীয় আয়োগ বা ন্যাশনাল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ওবিসি কোটা আর পাঁচ শতাংশ বাড়াতে বলেছে। কোটা বাড়াতে বলা হয়েছে পাঞ্জাব সরকারকেও।
বাংলায় এখন তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি মিলিয়ে মোট সংরক্ষণের পরিমাণ ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি চাকরি ও শিক্ষায় ৪৫ শতাংশ পদ ওই তিন পিছিয়ে থাকা অংশের জন্য সংরক্ষিত। ন্যাশনাল কমিশনের চেয়ারম্যান হংসরাজ আহির সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুই রাজ্য সরকারকেই তারা সুপারিশের কথা সরকারি বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন সরকারিভাবে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
তাঁর যুক্তি সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পদ-আসন সংরক্ষণ করা যায়। পশ্চিমবঙ্গে সেখানে ৪৫ শতাংশ পদ-আসন সংরক্ষিত। আরও অন্তত পাঁচ শতাংশ পদ সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। রাজ্যের সিংহভাগ মানুষ ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত। তাই বাড়তি কোটা ওই সম্প্রদায়ের প্রাপ্য।
বাংলায় এখন তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি’দের কোটার পরিমাণ যথাক্রমে ২২%, ৬% এবং ১৭%। ওবিসি-র ১৭ শতাংশের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের জন্য বরাদ্দ সাত শতাংশ। বাকি দশ শতাংশ ওবিসি-বি গ্রুপের জন্য। ওবিসি ভুক্তদের মধ্যে অতি পশ্চাৎপদদের দ্বিতীয় তালিকায় স্থান হয়েছে। এই সংরক্ষণ চালু করেছিল রাজ্যের বিগত বামফ্রন্ট সরকার। গোড়ায় সাত শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা হয়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের সময় তা বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ হয়েছিল।
পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে কমিশন সংরক্ষণের কোটা আরও বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ওই রাজ্যে ওবিসি-দের প্রাপ্য কোটা কম বলে আহিরের মত। সেখানে ওবিসি সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পদ-আসনের ১২ শতাংশ সংরক্ষিত। ওয়াকিবহালমহলের মতে, শিখ ধর্মাবলম্বীদের সিংহভাহ ওবিসি।
বাংলায় ওবিসি কোটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরর্ত চলছে। রাজ্য বিজেপির বক্তব্য, বাংলার ওবিসি তালিকায় সিংহভাগ নাম মুসলিম সম্প্রদায়ের। ওই তালিকা বাতিলের দাবি নিয়ে রাজ্য বিজেপির ওবিসি মোর্চা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ওবিসি কমিশন উল্টো সুরে বাংলায় কোটা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এর অর্থ গরিব মুসলিমরাই অতিরিক্ত সংরক্ষণের সুবিধা বেশি পাবেন। বিশেষ করে ওবিসি-বি তালিকায় বেশিরভাগ সম্প্রদায়ই ইসলাম ধর্মাবলম্বী।
যা থেকে আবার মনে হতে পারে ধর্মের ভিত্তিতে ওই তালিকা তৈরি হয়েছে। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওবিসি তালিকা তৈরি হয় আর্থ-সামাজিক পশ্চৎপদতার নিরিখে। তাই ওই তালিকায় সব ধর্মের মানুষ আছে। ওবিসি তালিকা অনুযায়ী, বাংলায় মুসলিমরা আর্থ-সামাজিকভাবে অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর তুলনায় বেশি পিছিয়ে।