
শেষ আপডেট: 15 April 2023 03:12
নিয়োগ দুর্নীতিতে (recruitment scam) বিকাশ ভবনকে যে দেদার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেছিল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির এও দাবি, অফিসার, সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে এজেন্ট, দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ডদের নিবিড় সম্পর্ক না থাকলে এই জিনিস সম্ভব নয়। এবার ইডির চার্জশিটে উল্লেখ করা হল শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব মণীশ জৈনের (Manish Jain) নাম।
ইডি দাবি করেছে, কুন্তল ঘোষের সূত্রেই তারা নিয়োগ দুর্নীতিতে মণীশ জৈনের যোগসাজশের কথা জানতে পেরেছে। ভুয়ো চাকরিপ্রার্থীদের যে ইন্টারভিউ হয়েছিল বিকাশ ভবনের ছ’তলার একটি ঘরে তা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে মণীশ বন্দোবস্ত করেছিলেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি যেদিন আদালতে এই চার্জশিট জমা দেয়, সেদিন তারা শুনানিতে এও বলে, কোন জেলার ভুয়ো চাকরিপ্রার্থীরা কোন সময়ে ইন্টারভিউ দেবেন, দূরের জেলার লোককে আগে ডেকে নেওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ব্লুপ্রিন্ট ছকা হয়েছিল বিকাশ ভবন থেকেই। যাতে নিবিড় যোগ ছিল মণীশ জৈন-সহ তাঁর কয়েকজন অধস্তন সরকারি আধিকারিকের।
সন্দেহ নেই, শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিবের নাম চার্জশিটে থাকা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। আমলা মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে ইডির চার্জশিটে মণীশের নাম থাকা নিয়ে। এ ব্যাপারে প্রথমবার দ্য ওয়াল-এ মুখ খুললেন মণীশ জৈন।
প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই বিষয়টি শুনলাম। গোটা ব্যাপারটায় আমি হতবাক। যে লোকটিকে (পড়ুন কুন্তল ঘোষ) আমি চিনিই না, তিনি আমার নাম কীভাবে বললেন, কেনই বা বললেন ভগবান জানেন!’
মণীশ আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর (পার্থ চট্টোপাধ্যায়) ওই ধরনের কোনও বিষয়ে আলোচনা হয়নি এবং তিনি কোনও নির্দেশও দেননি। আমার এই ব্যাপারে কোনও যোগই নেই। যা যা শুনছি তাতে আমি নিজেই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। একজন অফিসারের জন্য এটি খুবই অসম্মানজনক।’
শুধু মণীশ নন। ইডির ওই চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে কলকাতা পুরসভার ১২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থ সরকার ওরফে ভজার নাম। কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাতে লিখেছে, গোপাল দলপতির থেকে তারা জানতে পেরেছে কীভাবে টাকা পৌঁছেছিল ভজার কাছে।
এ ছাড়াও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুকান্ত আচার্য, ওএসডি প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের চার্জশিটে। এখানে বলে রাখা ভাল, এঁদের কারও নাম এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত হিসাবে নেই। তবে নিয়োগ দুর্নীতিতে যোগ বোঝাতে এঁদের নাম উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
অভিষেক রাজনীতি ছেড়ে দিতে চাইলেন, শর্ত দিয়ে চ্যালেঞ্জ অমিত শাহকে